ঢাকা: মোহাম্মদ মনির হোসেন ঢাকায় আসেন সাত বছর আগে। তখন থেকে তিনি রিকশা চালাতেন। কখনো কখনো ভ্যানও চালাতেন। রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয় তাঁর। মানুষ হয়ে অন্য এক বা দুজন মানুষকে টেনে নিয়ে যাওয়া খুব কষ্টের কাজ বলে মনে করেন তিনি। তাই কষ্ট থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন মৌসুমি ফলের ব্যবসা শুরু করেছেন তিনি। এখন চলছে তালের মৌসুম। দুই বছর ধরে এ মৌসুমে তাল ও তালের শাঁসই বিক্রি করেন তিনি।
জানালেন, রোজগার মোটামুটি ভালো।
মনির হোসেন থাকেন মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে কামাল মিয়ার বস্তিতে। সেখানকার ইউসেপ স্কুলের সামনে সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি তালের শাঁস বিক্রি করেন।
তিনি তাল শাঁসের জন্য কচি তাল তিনি কিনে আনেন সোয়ারিঘাটের আড়ত থেকে। প্রতিটি তাল ১৫ টাকা করে কিনে এনে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করেন।
একসঙ্গে তিনি ১০০ বা তারও বেশি তাল নিয়ে আসেন। এগুলো বিক্রি হয়ে গেল আবার নিয়ে আসেন। চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিদিন প্রায় সব তালই তাঁর বিক্রি হয়ে যায়। দিনশেষে তাঁর আয় থাকে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, রোজ ৫০০-৬০০ টাকা রোজগারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে।
তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেরা ছোট বলে পড়াশোনা না করলেও, তাঁর মেয়ে পড়াশোনা করে গ্রামের এক স্কুলে। সন্তানদের ঢাকায় রেখে পড়াশোনা করানোর সাধ্য তাঁর নেই বলে জানান মনির। তবু ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন তিনি।
গত বছর যখন করোনার কবলে পুরো বিশ্ব কাঁপছিল, তখন খুব কষ্টে দিন কেটেছে মোহাম্মদ মনির হোসেনের। তেমন কোনো সাহায্যও পাননি তিনি। শুধু তিন দিন তিনজন বাড়িওয়ালা পাঁচ কেজি করে চাল ও তেল দিয়েছিলেন। এবারও করোনার কারণে অনেক দিন ধরে লকডাউন চলছে। কিন্তু এখনো কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। গত বছর করোনায়ও তিনি রিকশা চালিয়েছেন। দিনের যেকোনো এক বেলা, বিশেষ করে বিকেলের দিকে রিকশা নিয়ে বের হতেন তিনি। যে টাকা আয় হতো, মালিককে নির্দিষ্ট অংশ জমা দিতেন। বাকিটা দিয়ে কোনো রকমে চলতেন। এ জন্য রিকশা চালানোর কাজ বাদ দিয়ে এখন মৌসুমি ফলের ব্যবসা শুরু করেছেন।