একসময় সংবাদ মানেই ছিল কাগজের পাতা কিংবা টেলিভিশনের পর্দা। কিন্তু ডিজিটাল বিপ্লব সে পরিচিত চিত্র পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। এখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রথমে পৌঁছায় ফেসবুকের টাইমলাইনে, ইউটিউবের স্ক্রিনে কিংবা মোবাইল অ্যাপের নোটিফিকেশনে। এই দ্রুত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে এক নতুন পেশা, যার নাম ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট।
শুরুর দিকে টেলিভিশন বা পত্রিকার কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ ছিল অনেকটাই অনিয়মিত ও গাইডলাইনহীন। তখন আলাদা কোনো ডিজিটাল টিম কিংবা কৌশল নিয়ে ভাববার প্রয়োজনও অনুভূত হয়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মই হয়ে উঠেছে সংবাদ প্রকাশের প্রধান মাধ্যম, একই সঙ্গে আয়ের বড় উৎস। ফলে রিপোর্টার কিংবা ভিডিও এডিটরের পাশাপাশি এখন প্রতিটি আধুনিক নিউজরুমে অপরিহার্য হয়ে উঠেছেন দক্ষ ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিকিউটিভ।
ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট আসলে কী
ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট হলো কোনো ভিডিও সংবাদ বা ভিজ্যুয়াল কনটেন্টকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কৌশলগতভাবে প্রকাশ ও ব্যবস্থাপনার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া। এর মধ্যে রয়েছে তথ্যভিত্তিক কিন্তু আকর্ষণীয় হেডলাইন লেখা, নজরকাড়া থাম্বনেইল তৈরি ও নির্বাচন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও), কনটেন্ট প্রকাশের সঠিক সময় নির্ধারণ এবং ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ—প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা উপস্থাপনের কৌশল প্রয়োগ।
এই পদের গুরুত্ব কতটা
শুধু একটি ভালো রিপোর্ট বা মানসম্মত ভিডিও থাকলেই যে তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভালো রিচ করবে—এমন নিশ্চয়তা কিন্তু নেই। কারণ প্রতিটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম আলাদা, দর্শক-পাঠকের অভ্যাস ও আগ্রহও ভিন্ন। কোন কনটেন্ট কখন প্রকাশ করলে বেশি মানুষ দেখবে, কীভাবে উপস্থাপন করলে আগ্রহ সৃষ্টি হবে—এ কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো ঠিকভাবে নেওয়া না হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবরও দর্শকের চোখ এড়িয়ে যায়। এ জায়গায় রিপোর্টার ও ভিডিও এডিটরের কাজকে পূর্ণতা দেন একজন ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিকিউটিভ।
কারা এ পেশায় আসতে পারেন
অনেক ক্ষেত্রেই ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিকিউটিভ হতে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। সাংবাদিকতা, গণযোগাযোগ, ইংরেজি, মিডিয়া স্টাডিজ, মার্কেটিং কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি—যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরাই এ পেশায় আসতে পারেন। পাশাপাশি রিপোর্টার, সাব-এডিটর বা ভিডিও এডিটর হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বাড়তি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে ভালো ধারণা, সংবাদবোধ, ভাষার ওপর দখল, ট্রেন্ড বোঝার সক্ষমতা এবং নতুন টুল ও প্রযুক্তি শেখার মানসিকতাই এই পেশায় সফল হওয়ার প্রধান যোগ্যতা।
জব রোল ও দায়িত্ব
ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিকিউটিভের কাজ শুধু কনটেন্ট আপলোডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি সংবাদ বা ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের পুরো ডিজিটাল যাত্রাপথ পরিচালনা করা। রিপোর্টার ও ভিডিও এডিটরের কাছ থেকে কনটেন্ট পাওয়ার পর তিনি ঠিক করেন, কনটেন্টটি কোন হেডলাইনে প্রকাশ করলে দর্শকের আগ্রহ বাড়বে, কী ধরনের থাম্বনেইল বেশি কার্যকর হবে এবং কোন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্টটি আগে দেওয়া উচিত। প্রকাশের সময় নির্ধারণ, ক্যাপশন ও ট্যাগ লেখা, এসইও অপটিমাইজেশন এবং প্ল্যাটফর্মভিত্তিক ফরম্যাটিংও তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
কনটেন্ট প্রকাশের আগে ট্রিটমেন্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কনটেন্টের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করে সঠিক ট্রিটমেন্টের ওপর। তথ্যভিত্তিক কিন্তু আকর্ষণীয় হেডলাইন, নজরকাড়া থাম্বনেইল, এসইও উপযোগী লেখা এবং দর্শকের অনলাইনে সক্রিয় সময় অনুযায়ী প্রকাশ—এ বিষয়গুলো ঠিকভাবে প্রয়োগ না হলে ভালো কনটেন্টও কাঙ্ক্ষিত রিচ পায় না। একই কনটেন্টকে আবার ফেসবুক, ইউটিউব ও ওয়েবসাইটে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে উপস্থাপন করতে হয়, যা ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আগামী পর্বে থাকছে: দক্ষ ডিজিটাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিকিউটিভ হতে করণীয়