সাক্ষাৎকার

বর্জ্যপানি গবেষণা শুধু দেশে নয়, বিশ্বেও প্রাসঙ্গিক

নদীনালায় জমে থাকা বর্জ্য আর বাতাসে ভেসে বেড়ানো অদৃশ্য প্লাস্টিক কণার নীরব আগ্রাসনে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্য। অথচ এই বৈশ্বিক সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে যেসব গবেষণা নিরলসভাবে এগিয়ে চলছে, সেগুলোর অনেকটাই থেকে যাচ্ছে আড়ালে। সেই নীরব লড়াইয়ের সামনের সারিতে থাকা তরুণ গবেষকদের একজন মো. মঞ্জুরুল ইসলাম পার্থ। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সিভিল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ড. মশিউর রহমান

প্লাস্টিক দূষণ কেন এত বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে?

প্লাস্টিকের মূল সমস্যা হলো এর টেকসই স্বভাব। টেকসই বলতে আমরা বুঝি এমন বস্তু, যা সহজে ভাঙে না বা পচে না। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে প্লাস্টিক ব্যবহার করি, তার বড় অংশ ব্যবহারের পর যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় না। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় প্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি হয়। এ কণাগুলো মাটি, পানি ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। মাছ, পাখি বা উদ্ভিদের শরীরে ঢুকে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের দেহে পৌঁছে যায়। ফলে চোখে না দেখা গেলেও এটি আমাদের স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন হরমোনীয় ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা কোষে প্রদাহ সৃষ্টি। এ কারণেই প্লাস্টিক দূষণ শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি বিশাল হুমকি।

আপনি কীভাবে এ গবেষণা ক্ষেত্রে এলেন?

শুরুতে আমার আগ্রহ ছিল পলিমার রসায়নে। কিন্তু শিক্ষাজীবনের শেষ দিকে তত্ত্বাবধায়কের গবেষণাক্ষেত্র পরিবর্তনের কারণে পরিবেশ প্রকৌশলের দিকে ঝুঁকতে হয়। তখন প্রথমে মনে হয়েছিল, এটি আমার পরিকল্পনার বাইরে। পরে বুঝলাম, পরিবেশগত সমস্যা—বিশেষ করে বর্জ্যপানি শোধন ও প্লাস্টিক দূষণ ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। ফলে এ খাতের জ্ঞান ভবিষ্যতে সমাজের জন্য বেশি উপকারী হবে। গবেষণায় অনেক সময় পরিকল্পনা বদলায়, কিন্তু নতুন পথই অনেক সময় বড় সুযোগ এনে দেয়। এটিই আমার শেখা।

জৈব প্লাস্টিক কীভাবে কাজ করে?

যা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে তৈরি হয়, সেটাই জৈব প্লাস্টিক। যেমন ভুট্টা, আখ বা কৃষিজ বর্জ্য। উদাহরণ হিসেবে পলিল্যাকটিক অ্যাসিড (পিএলএ) বলা যায়। এটি উদ্ভিজ্জ চিনি থেকে তৈরি একটি বায়োপলিমার। সঠিক পরিবেশে পিএলএ ভেঙে মাটিতে মিশে যেতে পারে। ফলে এটি প্রচলিত প্লাস্টিকের তুলনায় পরিবেশে কম দিন স্থায়ী হয়। তবে জৈব প্লাস্টিক কার্যকর হতে হলে তার উৎপাদন প্রক্রিয়া, ব্যবহার ও পরিত্যাগ—সব ধাপেই পরিবেশবান্ধব হতে হবে।

জৈব প্লাস্টিক কি সত্যিই পরিবেশবান্ধব?

জৈব প্লাস্টিককে অনেক সময় ‘সবুজ’ বা পরিবেশবান্ধব বলা হয়। কিন্তু এখানে সতর্কতা জরুরি। যদি জৈব প্লাস্টিক তৈরির জন্য খাদ্যশস্যের ব্যাপক ব্যবহার হয়, তবে খাদ্যনিরাপত্তা ও ভূমি ব্যবহারে চাপ পড়ে। অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারে জলাশয়ে ইউট্রোফিকেশন (পানিতে অতিরিক্ত পুষ্টির কারণে শৈবাল বৃদ্ধি) ঘটতে পারে। তাই প্রকৃত পরিবেশবান্ধব সমাধান বলতে বোঝায়, পুরো জীবনচক্র বিবেচনায় ক্ষতি কম হওয়া। এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাকে বলা হয় লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট। অর্থাৎ দ্রব্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিবেশগত প্রভাবের পূর্ণ হিসাব পর্যবেক্ষণ করা।

মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে কীভাবে ক্ষতি করে

মাইক্রোপ্লাস্টিকের পৃষ্ঠতল বড় হওয়ায় এর সঙ্গে ভারী ধাতু বা বিষাক্ত রাসায়নিক সহজে লেগে থাকে। ফলে কণাগুলো শরীরে ঢুকলে কেবল প্লাস্টিক নয়, সেই বিষাক্ত পদার্থও প্রবেশ করে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি কোষের ক্ষতি, হরমোনীয় পরিবর্তন এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সমস্যাটি অদৃশ্য। আমরা চোখে দেখি না, কিন্তু খাদ্য ও শ্বাসের মাধ্যমে প্রতিদিন অল্প অল্প করে শরীরে ঢুকছে।

বর্জ্যপানি থেকে সম্পদ পুনরুদ্ধার বলতে কী বোঝায়?

প্রচলিত বর্জ্যপানি শোধনের উদ্দেশ্য ছিল শুধু দূষণ কমানো। আধুনিক গবেষণায় বর্জ্যপানিকে ‘সম্পদের ভান্ডার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেমন শিল্পবর্জ্যে থাকা ধাতু বা পুষ্টি উপাদান আলাদা করে আবার ব্যবহার করা যায়। একে বলে রিসোর্স রিকভারি। তবে প্রযুক্তির দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা কোথায়?

বাংলাদেশে এখনো বহু শিল্পকারখানায় কার্যকর ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) নেই। অর্থাৎ বর্জ্যপানি শোধনের মৌলিক অবকাঠামোই অপর্যাপ্ত। আগে শোধন নিশ্চিত করা জরুরি; তারপর ধাপে ধাপে উন্নত প্রযুক্তি যোগ করে সম্পদ পুনরুদ্ধারের দিকে এগোনো সম্ভব।

এই গবেষণার বৈশ্বিক গুরুত্ব কী?

প্লাস্টিক দূষণ ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনা বৈশ্বিক সমস্যা। এটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDGs) সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন পানি, দায়িত্বশীল ভোগ ও জলবায়ু সুরক্ষার লক্ষ্য। ফলে এ গবেষণা কেবল একটি দেশের নয়; গোটা পৃথিবীর জন্য প্রাসঙ্গিক।

শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রস্তুতি নেবে?

গবেষণায় আসতে ধৈর্য জরুরি। প্রকাশনা, হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা এবং অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকবার ই-মেইল করে উত্তর না-ও আসতে পারে। তবু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

নবীনদের জন্য আপনার বার্তা কী?

বিজ্ঞান মানে কেবল জটিল সমীকরণ মুখস্থ করা বা পরীক্ষায় ভালো নম্বর তোলা নয়; বিজ্ঞান হলো আমাদের চারপাশের বাস্তব সমস্যাগুলোকে বোঝার একটি যুক্তিনির্ভর পদ্ধতি। প্রকৃত গবেষণার শুরু হয় তখনই, যখন আপনি কোনো ঘটনাকে দেখে প্রশ্ন করতে শেখেন ‘এটা কেন হচ্ছে?’ বা ‘এর পেছনের কারণ কী?’ এ প্রশ্ন করার অভ্যাস আপনাকে ধীরে ধীরে তথ্য খুঁজতে, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভাবতে এবং সমাধানের সম্ভাব্য পথগুলো কল্পনা করতে শেখায়। ধৈর্য ধরে শেখার এ যাত্রায় আপনি একদিন নিজেই নতুন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার সাহস অর্জন করবেন।

সীমান্ত ব্যাংকে চাকরি, ৪৮ বছরেও করা যাবে আবেদন

২৫ কর্মী নেবে ওয়ালটন, আবেদন শেষ ১৩ মার্চ

প্রিন্টিং করপোরেশনের লিখিত পরীক্ষার সূচি প্রকাশ, প্রার্থী ১৪০৫

রুরাল পাওয়ার কোম্পানির লিখিত পরীক্ষা ৭ মার্চ

বিমা কর্তৃপক্ষের ব্যবহারিক পরীক্ষার সূচি

নমুনা ভাইভা: জিআইয়ের স্বীকৃতি পেলে লাভ কী?

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি: বাংলার ৬ প্রত্নস্থল

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি

ম্যানেজার নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন, কর্মস্থল ঢাকা

এনআরবি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, স্নাতক পাসে আবেদন