হোম > ইসলাম

ফজরের নামাজের শেষ সময় কখন? সঠিক সময় জানুন

মুফতি শাব্বীর আহমদ

জামাতে নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো সালাত বা নামাজ। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজের গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, সে সারা দিনের জন্য সরাসরি মহান আল্লাহর জিম্মায় বা বিশেষ নিরাপত্তায় চলে যায়।

তবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, অলসতা কিংবা ঘুমের ভুলের কারণে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জেগে ওঠে—‘ফজরের নামাজের শেষ সময় মূলত কখন?’ কিংবা ‘সূর্যোদয়ের ঠিক কতক্ষণ পর কাজা নামাজ আদায় করা যায়?’ ফজরের নামাজের ওয়াক্ত, শেষ সময় এবং কাজা-সংক্রান্ত বিধান নিয়ে সঠিক তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো:

ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু ও শেষ সময়

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নামাজের সময় মূলত আসমানে সূর্যের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় এবং ভৌগোলিক অবস্থানভেদে এলাকা অনুযায়ী তা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে থাকে।

ওয়াক্ত শুরুর সময়:

সুবহে সাদিক অর্থাৎ ভোরের প্রথম আলো যখন পূর্ব দিগন্তে সাদা রেখার মতো আড়াআড়িভাবে ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক তখনই ফজরের নামাজের শুভ ওয়াক্ত শুরু হয়। সাধারণ ভৌগোলিক হিসাবে এটি সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা (১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট) আগে হয়ে থাকে।

ওয়াক্ত শেষের সূক্ষ্ম সময়:

ফজরের নামাজের ওয়াক্ত সূর্যোদয়ের ঠিক পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা হলো—কেউ যদি সঠিক সময়ের মধ্যে নামাজ শুরু করে সূর্য ওঠার পূর্বেই শেষ করতে পারে, তবেই তা সময়মতো আদায় বলে গণ্য হবে। সূর্য উদিত হওয়া মাত্রই ফজরের ওয়াক্ত সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়।

শেষ সময়ে নামাজ আদায়ের হুকুম

অপ্রয়োজনে বা অলসতা করে সময় গড়িয়ে সূর্যোদয়ের ঠিক কাছাকাছি সময়ে গিয়ে নামাজ আদায় করা মাকরুহ। মহানবী (সা.) ওয়াক্তের শুরুতেই অথবা যথেষ্ট সময় বাকি থাকা অবস্থায় খুশু-খুজুর সঙ্গে নামাজ আদায়ের তাগিদ দিয়েছেন। তাই সময় থাকতে আসমানে ভোরের পর্যাপ্ত আলো ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই নামাজ সম্পন্ন করা উত্তম।

ঘুম ভাঙতে দেরি হলে বা কাজা নামাজের বিধান

যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নয়, বরং অনিচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ঘুম কিংবা ভুলের কারণে সময়মতো উঠতে না পারে, তবে ইসলাম তার জন্য সহজ বিধান দিয়েছে। ঘুম থেকে জাগার সঙ্গে সঙ্গেই কিংবা বিষয়টি মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত অজু করে নামাজ আদায় করে নিতে হবে।

হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:

‘যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে ভুলে যায় বা ঘুমের কারণে তা ছুটে যায়, তার কাফফারা হলো—যখনই তা মনে পড়বে (বা ঘুম ভাঙবে), তখনই তা আদায় করে নেওয়া।’

সূর্যোদয়ের সময় নামাজ পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

ঘুম ভাঙার পর কাজা আদায়ের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা অবশ্য প্রয়োজনীয়। ইসলামে সূর্যোদয়ের সঠিক সময়ে কোনো প্রকার নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম।

যদি কোনো কারণে ঘুম ভাঙার পর দেখা যায় যে দিগন্তে সূর্য উঠতে শুরু করেছে, তবে ওই মুহূর্তে নামাজে দাঁড়ানো যাবে না। সূর্যোদয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে এবং সূর্য একটু ওপরের দিকে উঠতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময়ের প্রয়োজন হয়।

অতএব, সূর্য ওঠা শুরু হলে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সূর্য পুরোপুরি উঠে যাওয়ার পর সেই নামাজ ‘কাজা’ হিসেবে আদায় করে নিতে হবে।

ফজরের নামাজ মুমিনের পুরো দিনের আত্মিক শক্তি ও আল্লাহর নিরাপত্তাবেষ্টনী অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত নিয়মিত অ্যালার্ম বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সূর্যোদয়ের আগেই সময়মতো ফজরের নামাজ আদায় করা।