হোম > ইসলাম

তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত

ইসলাম ডেস্ক 

নামাজ শেষে দোয়া করছেন মুসল্লিরা। ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

রমজান মাসের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। এশার নামাজের পর এবং বিতর নামাজের আগে এই নামাজ আদায় করা হয়। দীর্ঘ ১১ মাস পর মাহে রমজানে মুমিন মুসলমানরা অত্যন্ত প্রশান্তির সঙ্গে এই নামাজে শরিক হন।

তারাবি শব্দের অর্থ ও গুরুত্ব

তারাবি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো—বিশ্রাম করা, স্বস্তি বা প্রশান্তি লাভ করা। যেহেতু প্রতি চার রাকাত পরপর একটু সময় বসে বিশ্রাম নেওয়া হয়, তাই একে তারাবির নামাজ বলা হয়।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ্ বুখারি: ১৯০১)

তারাবি নামাজের বহুল প্রচলিত দোয়া

তারাবির নামাজে প্রতি চার রাকাত পরপর একটু বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত। এই সময় চুপচাপ বসে থাকা, তাসবিহ পাঠ করা বা দোয়া পড়া যায়। আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত দোয়াটি নিচে দেওয়া হলো:

আরবি দোয়া:

سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ. سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ

سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوتُ أَبَدًا أَبَدًا. سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

উচ্চারণ: সুবহা-না জিল মুলকি ওয়াল মালাকুত। সুবহা-না জিল ইজ্জাতি ওয়াল আজামাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল জাবারুত।

সুবহা-নাল মালিকিল হাইয়িল্লাজি লা-ইয়ানা-মু ওয়ালা ইয়ামু-তু আবাদান আবাদা। সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়াররুহ।

অর্থ: সকল মহিমা সেই সত্তার জন্য, যাঁর হাতে রাজত্ব ও সব গায়েবি জগতের কর্তৃত্ব। সকল পবিত্রতা সেই মহান সত্তার জন্য, যাঁর আছে সম্মান, মহিমা, গাম্ভীর্য, শক্তি, শ্রেষ্ঠত্ব এবং পরম কর্তৃত্ব।

পবিত্র সেই রাজাধিপতি, চিরঞ্জীব, যিনি কখনো ঘুমান না এবং যার কখনো কোনো মৃত্যু নেই। তিনি অত্যন্ত পবিত্র, অতিশয় মহান—তিনি আমাদের রব, ফেরেশতাদের রব এবং রুহের রব।

তারাবি নামাজের মোনাজাত

তারাবির নামাজ শেষে ব্যক্তিগত বা সম্মিলিতভাবে মোনাজাত করা যায়। মোনাজাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই, তবে নিচের দোয়াটি আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়:

اَللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ، يَا خَالِقَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ. بِرَحْمَتِكَ يَا عَزِيزُ، يَا غَفَّارُ، يَا كَرِيمُ، يَا سَتَّارُ، يَا رَحِيمُ، يَا جَبَّارُ، يَا خَالِقُ، يَا بَرُّ. اَللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ، يَا مُجِيرُ، يَا مُجِيرُ، يَا مُجِيرُ. بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না-নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খা-লিকাল জান্নাতা ওয়ান্নার। বিরাহমাতিকা ইয়া-আজিজু ইয়া-গাফফারু, ইয়া-কারিমু ইয়া-সাত্তারু, ইয়া-রাহিমু ইয়া-জাব্বারু, ইয়া-খলিকু ইয়া-বাররু। আল্লাহুম্মা আজিরনা-মিনাননার। ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজির। বিরাহমাতিকা ইয়া-আরহামার রাহিমিন।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে জান্নাত চাই। আর আমরা আপনার কাছে আগুন (জাহান্নাম) থেকে আশ্রয় চাই। হে জান্নাত ও আগুনের স্রষ্টা।

হে পরাক্রমশালী, হে ক্ষমাশীল, হে উদার, হে দোষ গোপনকারী, হে দয়ালু, হে পরাক্রান্ত, হে সৃষ্টিকর্তা, হে কল্যাণকারী—আপনার রহমতে (আমাদের দোয়া কবুল করুন)।

হে আল্লাহ, আমাদের আগুন থেকে রক্ষা করুন। হে সংরক্ষণকারী, হে সংরক্ষণকারী, হে সংরক্ষণকারী। হে সর্বাধিক দয়ালুদের চেয়েও সর্বাধিক দয়ালু, আপনার রহমতে আমাদের প্রতি করুণা করুন।

রোজার সময় সহবাসের নিয়ম ও বিধান

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম ছাত্র শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান (রহ.)

নবীজি (সা.)-এর কোলে দুটি পূর্ণিমার চাঁদ

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তাকওয়া অর্জনের ইহকালীন ও পরকালীন উপকারিতা

আল্লামা হাবিবুর রহমান আজমি: প্রথিতযশা মুহাদ্দিস ও পাণ্ডুলিপি গবেষক

নবীজি (সা.)-এর দাম্পত্যজীবনের টুকরো স্মৃতি

বমি করলে কখন রোজা ভাঙে, কখন ভাঙে না?

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজান: আত্মসংযম শেখায় যে মাস