দোয়া ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বান্দা যখন আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন ও অসহায়ত্ব তুলে ধরে, তখন সে মূলত তাঁর ওপর নিজের নির্ভরতা প্রকাশ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)
সুখ-দুঃখে, বিপদ-আপদে ও প্রয়োজনের সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তবে দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন ও পবিত্র জীবনের গুরুত্ব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দীর্ঘ সফর করে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম। তিনি প্রশ্ন করেছেন, ‘এ অবস্থায় তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?’ (সহিহ মুসলিম, ১০১৫)। তাই কোরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত জিকির ও দোয়া নিয়মিত আমল করা উত্তম। এমন ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও দোয়া হলো—
১. দরুদ পাঠ
দরুদ হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি সালাত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর সালাত পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম প্রদান করো।’ (সুরা আল-আহজাব: ৩৩: ৫৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন, তার দশটি গুনাহ মুছে দেন এবং তার মর্যাদা দশ ধাপ বৃদ্ধি করেন।’ (সুনান আন-নাসায়ি: ১২৯৭)
২. ইস্তিগফার
ইস্তিগফার অর্থ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল।’ (সুরা নূহ: ১০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি দিনে ১০০ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭০২)। ইস্তিগফার তাই গুনাহ মাফের পাশাপাশি আল্লাহর দিকে ফিরে আসা ও নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ আমল।
৩. ‘ইয়া জাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম’
এর অর্থ—‘হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।’ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বরকতময় তোমার রবের নাম, যিনি মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।’ (সুরা রহমান: ৭৮)। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘ইয়া জাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম’ বেশি বেশি বলার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। (জামে তিরমিজি: ৩৫২৫)
৪. ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’
এর অর্থ—‘আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিকে ‘জান্নাতের একটি গুপ্তধন’ বলেছেন। (সহিহ বুখারি: ৬৪০৯)। এই জিকির বান্দাকে মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত শক্তি ও সামর্থ্যের উৎস একমাত্র আল্লাহ।
৫. দোয়া ইউনুস
দোয়া ইউনুস হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমিন।’ অর্থ—‘আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; আপনি পবিত্র ও মহিমান্বিত। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৭)
এর পরের আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে উদ্ধার করলাম; আর এভাবেই আমি মুমিনদের উদ্ধার করি।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৮)। তাই বিপদ, দুশ্চিন্তা ও সংকটের সময়ে এই দোয়া পড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
৬. চারটি প্রিয় জিকির
‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’—এই চারটি জিকিরের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটি—সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার।’ (সহিহ মুসলিম: ২১৩৭)
‘সুবহানাল্লাহ’ অর্থ আল্লাহ পবিত্র ও মহিমাময়, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ অর্থ সব প্রশংসা আল্লাহর, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং ‘আল্লাহু আকবার’ অর্থ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।