মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে মুমিন বান্দার জীবনে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ কেবল উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ইবাদতেরও অংশ। ঈদের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ঈদের নামাজ।
ঈদের নামাজের বিধান ও সময়
যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজ আদায় করাও ওয়াজিব। সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে দুপুর (দ্বিপ্রহর) হওয়ার আগপর্যন্ত ঈদের নামাজ আদায় করা যায়। ঈদুল ফিতরের নামাজ কিছুটা দেরিতে আদায় করা সুন্নত, যাতে মুসল্লিরা নামাজের আগে স্বাচ্ছন্দ্যে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে পারেন। (ফাতহুল কাদির)
ঈদের নামাজের নিয়ত মুখে আরবিতে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। মনে মনে এই সংকল্প করাই যথেষ্ট যে ‘আমি এই ইমামের পেছনে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ কিবলামুখী হয়ে আদায় করছি।’
ঈদের নামাজ আদায়ের নিয়ম
ঈদের নামাজ আজান ও ইকামত ছাড়া দুই রাকাত আদায় করতে হয়। এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির বলা ওয়াজিব।
প্রথম রাকাত: ক. প্রথমে আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধুন এবং সানা পাঠ করুন। খ. এরপর ইমাম সাহেব অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয় তাকবিরের পর হাত বাঁধতে হবে। গ. এরপর ইমাম সাহেব স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পাঠ করবেন এবং রুকু-সিজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।
দ্বিতীয় রাকাত: ক. দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে ইমাম সাহেব আগে কিরাত পাঠ করবেন। খ. কিরাত শেষ হওয়ার পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলতে হবে। প্রতি তাকবিরে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। গ. চতুর্থ তাকবির বলে হাত না উঠিয়ে সরাসরি রুকুতে চলে যেতে হবে। এরপর স্বাভাবিক নামাজের মতো শেষ বৈঠক ও সালামের মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন হবে।
নামাজ শেষ হওয়ার পর ইমাম সাহেবের জন্য খুতবা দেওয়া সুন্নত। তবে উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য সেই খুতবা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কোনো কথা বলা বা চলাফেরা করা নিষেধ। (ফাতাওয়া শামি)