পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে নফল ইবাদতের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। আরবি ‘হুজুদ’ মূল শব্দ থেকে ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের উৎপত্তি, যার আভিধানিক অর্থ হলো ঘুম থেকে জেগে ওঠা। শরিয়তের পরিভাষায়, এশার নামাজের পর রাতের যেকোনো সময় ঘুম থেকে জেগে যে নফল নামাজ আদায় করা হয়, তাকে তাহাজ্জুদ বলা হয়। এটি মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠতম নফল ইবাদত।
তবে সঠিক তথ্যের অভাবে তাহাজ্জুদ নামাজকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে কিছু ভুল ধারণা ও কুসংস্কার গড়ে উঠেছে। এসব ভুল ধারণার অবসান ঘটিয়ে তাহাজ্জুদের সঠিক নিয়ম ও সময় জেনে নেওয়া জরুরি।
পড়া যায় না
অনেক মানুষ মনে করেন, রাতে কিছুক্ষণ হলেও না ঘুমালে তাহাজ্জুদ আদায় করা সম্ভব নয়। এটি একটি বিভ্রান্তি। তাহাজ্জুদের আভিধানিক অর্থ ঘুমের পর জেগে ওঠা হলেও, কেউ যদি রাতে না ঘুমিয়েও নফল নামাজ আদায় করেন, তবে তা ‘কিয়ামুল লাইল’ বা তাহাজ্জুদ হিসেবেই ধর্তব্য হবে এবং তিনি পূর্ণ সওয়াব পাবেন।
অনেকে এই ভয়ে তাহাজ্জুদ পড়তে চান না যে একবার তাহাজ্জুদ শুরু করলে সারা জীবন তা নিয়মিত পড়ে যেতে হবে; নতুবা গুনাহ হবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। তাহাজ্জুদ একটি নফল ইবাদত; যা আদায় করলে অশেষ সওয়াব রয়েছে, তবে কোনো কারণে পরবর্তী সময়ে না পড়তে পারলে কোনো গুনাহ বা পাপ হবে না।
সাধারণ মানুষের মাঝে অলৌকিক বা ভৌতিক ভয় প্রচলিত আছে যে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়লে জিন আসে বা অদ্ভুত কিছু ঘটে। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও কুসংস্কারপ্রসূত ধারণা। নিভৃত রাতে আল্লাহর ইবাদত বান্দার মনে প্রশান্তি ও নিরাপত্তা আনে।