হোম > ইসলাম

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত, পড়ার নিয়ম কী

ইসলাম ডেস্ক 

প্রতীকী ছবি

ইসলামে নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার পূর্বে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য তাহাজ্জুদ আদায় করা বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি নিয়মিত এই নামাজ পড়তেন, এমনকি কোনো কারণে কাজা হয়ে গেলে দিনে তা আদায় করে নিতেন এবং সাহাবিদেরও এটি নিয়মিত আদায়ের তাগিদ দিতেন।

হাদিসে এসেছে, তাহাজ্জুদ নামাজ অতীতের সৎকর্মশীল বান্দাদের আমল, যা পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং শারীরিক রোগব্যাধি থেকেও রক্ষা করে। (জামে তিরমিজি)

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত?

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত—এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। হাদিস অনুযায়ী তাহাজ্জুদ নামাজ ২ রাকাত থেকে শুরু করে ২০ রাকাত পর্যন্ত পড়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।

মহানবী (সা.) কখনো ৪ রাকাত, কখনো ৮ রাকাত আবার কখনো ১২ রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত সারা বছর ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। (সহিহ বুখারি)

সময় ও সুযোগ থাকলে ১২ রাকাত বা ৮ রাকাত পড়া উত্তম, সম্ভব না হলে অন্তত ৪ রাকাত পড়া উচিত। তবে কেউ যদি কমপক্ষে ২ রাকাত আদায় করেন, তাহলেও তিনি তাহাজ্জুদের সওয়াব ও নেকি পাবেন।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

১. দুই রাকাত করে আদায়: রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ২ রাকাত করে সালাম ফিরিয়ে এই নামাজ আদায় করতেন। যদিও এক সালামে ৪ বা ৮ রাকাত পড়ার বর্ণনাও পাওয়া যায়, তবে ২ রাকাত করে পড়াই সবচেয়ে উত্তম।

২. সুরা পাঠ: তাহাজ্জুদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সুরা নেই; যেকোনো সুরা দিয়ে এ নামাজ পড়া যায়।

৩. দীর্ঘ কেরাত ও রুকু-সেজদা: রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদে দীর্ঘ কেরাত পড়তেন। তাই দীর্ঘ সময় নিয়ে কেরাত পড়া এবং রুকু-সেজদাসহ অন্যান্য পর্ব দীর্ঘায়িত করা মুস্তাহাব।

৪. সেজদায় দোয়া: রুকু ও সেজদার তাসবিহ অনেকবার পড়া যায়। এ ছাড়া সেজদায় অবনত হয়ে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন দোয়া পাঠ করার বিশেষ নির্দেশনা ও মর্যাদা রয়েছে।