হোম > ইসলাম

তাবিজ বা কালো জাদু দিয়ে কাউকে বশ করা কি জায়েজ

ইসলাম ডেস্ক 

পবিত্র কোরআন। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: কাউকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা, পছন্দের মানুষকে বিয়ে করা, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নিজের অনুকূলে আনা কিংবা কাউকে নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করার জন্য তাবিজ-কবচ, বশীকরণ বা জাদুর আশ্রয় নেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে কতটুকু বৈধ? বশীকরণ তাবিজে অজানা মন্ত্র, সংকেত বা শিরকি বিষয় থাকার আশঙ্কা থাকলে এর হুকুম কী? এ ধরনের তাবিজ ব্যবহার, জাদুর মাধ্যমে কারও ওপর প্রভাব বিস্তার এবং কথিত বশীকরণকারীর কাছে গিয়ে সাহায্য নেওয়ার ব্যাপারে কোরআন-হাদিস কী নির্দেশনা দিয়েছে?

সুরভি মিশকাত, বনানী, ঢাকা

উত্তর: কাউকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা বা নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে তাবিজ-কবচ ও বশীকরণের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা সমাজে দেখা যায়। বিশেষ করে পছন্দের মানুষকে বিয়ে করা, দাম্পত্যজীবনে কাউকে অনুগত করা কিংবা কোনো সম্পর্ক নিজের অনুকূলে আনার জন্য অনেকে তথাকথিত ‘বশীকরণ তাবিজ’-এর দ্বারস্থ হন। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয়।

জাদুর মাধ্যমে মানুষের ওপর প্রভাব

কোরআনে জাদুর ভয়াবহতা তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা এমন বিষয় শিখত, যার মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত।’ (সুরা বাকারা: ১০২)। আয়াতটিতে জাদুর মাধ্যমে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তাই কাউকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা বা তার মনকে নিজের ইচ্ছানুযায়ী পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে জাদু বা জাদুসদৃশ কোনো বশীকরণ পদ্ধতি অবলম্বন করা বৈধ নয়।

তাবিজের আড়ালে শিরকের আশঙ্কা

বশীকরণের তাবিজে কী লেখা থাকে, তা অনেক সময় ব্যবহারকারী নিজেও জানেন না। সেখানে কোরআনের আয়াত বা দোয়ার পাশাপাশি অজানা সংকেত, মন্ত্র, জিন-শয়তানের সাহায্য প্রার্থনা কিংবা শিরকি বাক্য থাকতে পারে। এমন তাবিজ ব্যবহার করা ভয়াবহ অপরাধ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলাল, সে শিরক করল।’ (মুসনাদ আহমাদ: ১৭৪০৪)। কোরআনের আয়াত বা শরিয়তসম্মত দোয়া লিখে তাবিজ ব্যবহারের ব্যাপারকে উলামায়ে কেরাম জায়েজ বলেন। কিন্তু অজানা মন্ত্র, শিরকি বাক্য বা জাদুবিদ্যার উপাদানযুক্ত তাবিজের বৈধতার কোনো সুযোগ নেই।

বশীকরণকারীর কাছে যাওয়া

অনেক বশীকরণকারী দাবি করে, তারা বিশেষ মন্ত্র, জিনের সাহায্য বা গোপন শক্তির মাধ্যমে অমুক ব্যক্তিকে বশ করে দিতে পারে। এসব দাবি বিশ্বাস করে তাদের কাছে যাওয়া মুসলমানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করে এবং তার কথা বিশ্বাস করে, ৪০ দিন তার নামাজ কবুল করা হয় না।’ (সহিহ মুসলিম: ২২৩০)

তাই কারও মন জয় কিংবা সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার নামে কথিত বশীকরণকারীর কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি।

উত্তর দিয়েছেন

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।