হোম > ইসলাম

কর্মব্যস্ত জীবনে কি কোরআনচর্চা ভুলতে বসেছি!

মোছা. আসমাউল হুসনা

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক ও ব্যস্ততম জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত নানাবিধ সংকট ও বিপদের সম্মুখীন হই। ব্যক্তিগত, সামাজিক কিংবা আত্মিক নানামুখী জটিলতা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে আমরা কত উপায়েরই-না দ্বারস্থ হই। অথচ এই অনুসন্ধানের মাঝেই অনেক সময় ভুলে যাই মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের কথা।

প্রতিদিন ভোরে নামাজ শেষে কোরআনের সান্নিধ্য লাভ করা এবং এর আলোকে পুরো দিনের কর্মপরিকল্পনা সাজানোর সুন্দর অভ্যাসটি আমরা ক্রমেই ভুলতে বসেছি। মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য যে গ্রন্থটি শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে তার অবস্থান ঠিক কতটুকু—তা আজ গভীরভাবে ভাববার বিষয়।

ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের চেষ্টার অন্ত নেই। অথচ এই গ্রন্থে মহান রব স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘আর নিশ্চয়ই তা (কোরআন) মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।’ (সুরা নামল: ৭৭)

সুফি সাহিত্য ও ইসলামি ভাবধারায় কোরআনকে মানব চরিত্রের ‘পরশপাথর’ বা ‘কিমিয়া’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। যেমন—হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজালি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম রেখেছিলেন ‘কিমিয়ায়ে সাআদাত’ বা ‘সৌভাগ্যের পরশপাথর’—যা মূলত কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের জীবনকে আলোকিত করার নির্দেশিকা।

পরশপাথর হিসেবে কোরআনের প্রভাব কয়েকটি প্রধান দিক থেকে দৃশ্যমান:

১. হৃদয়ের অভূতপূর্ব রূপান্তর: জাহেলিয়াত বা অজ্ঞতার যুগের চরম বর্বর মানুষকে পবিত্র কোরআন তার ঐশী আদর্শ ও বাণীর স্পর্শে ‘সোনার মানুষে’ পরিণত করেছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর আত্মিক রূপান্তর।

২. মর্যাদা ও মান বৃদ্ধি: পরশপাথরের স্পর্শে সাধারণ ধাতু যেমন মূল্যবান সোনায় পরিণত হয়, কোরআনের সান্নিধ্যে মানুষের সম্মান ও মর্যাদাও তেমনি বৃদ্ধি পায়। যে ব্যক্তি কোরআনের আদর্শকে নিজের জীবনে ধারণ করে, সে মহান আল্লাহর দরবারে সর্বাধিক সম্মানিত হয়।

৩. আত্মিক ও ব্যাধি নিরাময়: পবিত্র কোরআন মানুষের অন্তরের হিংসা, অহংকার, সংশয় ও কুসংস্কার দূর করে সেখানে হিদায়াত ও শান্তির অমল আলো জ্বালিয়ে দেয়।

প্রাত্যহিক রুটিনে কোরআনের আলো

মহান রব পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের রুটিন সাজাতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের গাঢ় অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করুন এবং ফজরের নামাজে কোরআন পাঠ করার নীতি অবলম্বন করুন। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজের পর কোরআন পাঠ (ফেরেশতাগণ কর্তৃক) সরাসরি সাক্ষ্যপ্রাপ্ত।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৭৮)

আমরা যদি নিখাদ ও বিশুদ্ধ চিত্তে এই মহিমান্বিত গ্রন্থের দ্বারস্থ হই, তবে দুনিয়া ও আখিরাতে এর অসীম রহমত ও বরকত লাভ করতে পারব, ইনশা আল্লাহ।

সর্বোপরি, কোরআন এমন এক ঐশী গ্রন্থ, যার পরতে পরতে আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি প্রশ্ন, সংকট ও সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা খুঁজে পাই। তাই কর্মব্যস্ততার অজুহাত এড়িয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়া ও গভীর করা সময়ের অন্যতম দাবি।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়