রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সৌন্দর্য ও লাবণ্যের বর্ণনা মানব ইতিহাসের এক অতুলনীয় অধ্যায়। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে সৌন্দর্যের অনুপম পূর্ণতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সাধারণ কবি-সাহিত্যিকেরা রূপের উপমা দিতে গিয়ে পূর্ণিমার চাঁদের কথা বলেন; কিন্তু সাহাবিদের দৃষ্টিতে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন চাঁদের চেয়ে বহুগুণে সুন্দর, দ্যুতিময় ও নিখুঁত।
সাহাবি জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে এর অনুপম চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘একবার এক স্নিগ্ধ চাঁদনি রাতে আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখলাম। তাঁর গায়ে ছিল একটি লাল চাদর। আমি একবার আকাশের চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম, আর একবার নবীজি (সা.)-এর নুরানি চেহারার দিকে তাকাচ্ছিলাম। আল্লাহর কসম! আমার কাছে তিনি সেই পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে বহুগুণে বেশি সুন্দর মনে হচ্ছিল।’ (জামে তিরমিজি: ২৮১১)
বিশ্বনবী (সা.)-এর চেহারার নুর ছিল মৃত আত্মাকে জাগিয়ে তোলার এক আসমানি সঞ্জীবনী আলো। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনের দুটি দাঁতের মাঝে সামান্য ফাঁকা ছিল। যখন তিনি কথা বলতেন, মনে হতো সেই দাঁতের ফাঁক দিয়ে নুরের আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে।’ (সুনানে দারেমি: ৭৯)
নবীজি (সা.)-এর বাচনভঙ্গি, মুচকি হাসি ও চেহারার অনাবিল দ্যুতি সম্পর্কে সাহাবি কাব ইবনে মালিক (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.) যখন আনন্দিত হতেন, তখন তাঁর মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠত; মনে হতো তা যেন পূর্ণিমার চাঁদেরই এক টুকরা।’ (সহিহ বুখারি: ৩৫৬৬)
তবে বিশ্বনবীর এই সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক রূপের কাঠামোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তাঁর মহান নৈতিক চরিত্র, অপার দয়া, ক্ষমা ও তাওয়াজু বা বিনয় সেই রূপকে করেছিল পূর্ণাঙ্গ। আকাশের চাঁদ বহু দূর থেকে শুধু ক্ষণিকের আলো ছড়ায়, কিন্তু রাহমাতুল্লিল আলামিনের রূপ-মাধুর্য ও আখলাকের জ্যোতি পুরো বিশ্ববাসীকে জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে হিদায়েতের মুক্ত আলোয় নিয়ে এসেছে। তিনি ছিলেন সৃষ্টিজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরন্তন আলোকবর্তিকা, যাঁর সৌরভ ও সৌন্দর্য চিরকাল মুমিন হৃদয়ে ইমানের স্পন্দন হয়ে থাকবে।