হোম > ইসলাম

জুমা ও জোহর নামাজের ৫ পার্থক্য

তাসনিফ আবীদ

পবিত্র বায়তুল্লাহয় ইবাদতে ব্যস্ত মুসল্লিরা। ছবি: সংগৃহীত

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদও বলা হয়। মুসলিম উম্মাহ এ দিনে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে সমবেত হয় এবং ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরত করে মদিনায় পৌঁছানোর পর বনু সালেম ইবনে আওফ গোত্রের এলাকায় প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন।

জুমার নামাজ জোহরের ওয়াক্তেই আদায় করা হয় এবং এটি জোহরের নামাজের স্থলাভিষিক্ত। তবে আদায়ের পদ্ধতি, জামাত, খুতবা ও কিছু বিধানের ক্ষেত্রে জুমা ও জোহরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নিচে জুমা ও জোহর নামাজের পাঁচটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

১. রাকাত সংখ্যা ও ফরজের বিধান

জুমার ফরজ নামাজ ২ রাকাত, যা ইমামের পেছনে জামাতে আদায় করা আবশ্যক। অন্যদিকে সাধারণ দিনে জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত, যা জামাতে বা একাকী—দুভাবেই আদায় করা যায়।

২. সুন্নত ও আনুষঙ্গিক নামাজ

জুমার নামাজের ক্ষেত্রে ফরজের আগে ৪ রাকাত কাবলাল জুমা এবং পরে ৪ রাকাত বা’দাল জুমা (সুন্নতে মুয়াক্কাদা) আদায় করতে হয়। অন্যদিকে জোহরের নামাজের ক্ষেত্রে ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং ফরজের পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা পড়ার বিধান রয়েছে।

৩. খুতবা প্রদানের আবশ্যকতা

জুমার নামাজের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো খুতবা। নামাজ শুরু করার আগে ইমাম সাহেব দুটি খুতবা প্রদান করেন, যা শোনা উপস্থিত সব মুসল্লির জন্য ওয়াজিব বা আবশ্যক। জোহরের নামাজের জন্য এ ধরনের কোনো খুতবা নেই।

৪. আমল ও ফজিলতগত পার্থক্য

ইসলামে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। জুমার নামাজের আগে-পরে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, তওবা-ইস্তিগফার এবং বিশেষ দোয়ার আমল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার ফজিলত জোহরের সাধারণ ওয়াক্তের চেয়ে অনেক বেশি। তবে এসব নফল আমল জুমার নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বা বাধ্যতামূলক নয়, বরং এগুলো ঐচ্ছিক ও সওয়াব বৃদ্ধির মাধ্যম।

৫. জামাতের শর্ত

জুমার নামাজ একাকী আদায় করা যায় না; এটি আদায়ের জন্য সর্বনিম্ন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক মুসল্লির জামাত এবং এলাকাটি শহর বা শহরতলি হওয়া আবশ্যক। কিন্তু জোহরের নামাজ জামাত ছাড়াও এককভাবে যেকোনো স্থানে আদায় করা সম্ভব।