হোম > ইসলাম

আপনার জিজ্ঞাসা

আয়-উপার্জনে বরকত ও ঋণমুক্তির আমল

মুফতি শাব্বির আহমদ

প্রশ্ন: বেশ কিছু কারণে আমি নানা জটিলতায় পড়ে গেছি। বেশ কিছু ঋণ হয়ে গেছে। এ ছাড়া আয়-উপার্জনেও কোনো বরকত পাচ্ছি না। ঋণ থেকে মুক্তি এবং আয়-উপার্জনে বরকত পেতে কী আমল করতে পারি?

মো. শাহজালাল, পটুয়াখালী

উত্তর: ঋণ ও অভাব শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, এটি মানুষের মানসিক শান্তি কেড়ে নেয় এবং ইবাদতে একাগ্রতা কমিয়ে দেয়। পার্থিব জীবনে স্বস্তি বজায় রাখা ইবাদতের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। জীবিকার পেরেশানি যেন আপনাকে আল্লাহবিমুখ না করে, সে জন্য নিচের আমলগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করুন—

  • তওবা ও ইস্তিগফারের আমল: রিজিক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো গুনাহ। আপনি যদি নিয়মিত ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করেন, তবে আল্লাহ তাআলা অকল্পনীয় উৎস থেকে আপনার রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে উন্নতি দান করেন (সুরা নুহ: ১০-১২)।
  • তাকওয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসা: আল্লাহর প্রতি ভয় (তাকওয়া) থাকলে তিনি সংকটের পথ বের করে দেন। আপনি যদি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখেন, তবে তিনি আপনাকে পাখির মতো রিজিক দেবেন; যারা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেট ভরে বাসায় ফেরে।
  • আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা: এটি রিজিক বৃদ্ধির একটি পরীক্ষিত আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের রিজিক প্রশস্ত এবং দীর্ঘায়ু কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে (সহিহ বুখারি: ২০৬৭)। আপনার আত্মীয়দের খোঁজ নিন, সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ান।
  • দান-সদকা ও দুর্বলের প্রতি দয়া: মানুষের মনে হতে পারে দান করলে টাকা কমে যায়; আসলে দান করলে রিজিকে বরকত নামে। প্রতিদিন সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু সদকা করুন। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মধ্যকার দুর্বল ও অসহায়দের কারণেই সাহায্য ও রিজিক পেয়ে থাকো।
  • ইবাদতে একাগ্রতা ও শুকরিয়া আদায়: সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন। কাজ ও ব্যবসার ফাঁকে নামাজ নয়, বরং নামাজের ফাঁকে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করুন। এ ছাড়া আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য সব সময় কৃতজ্ঞতা (শুকরিয়া) প্রকাশ করুন। আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)
  • সুন্নাহসম্মত উপায়ে জাগতিক চেষ্টা: শুধু দোয়ায় কাজ হবে না, পাশাপাশি আপনাকে হালাল উপায়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য আর নেই। আপনার ব্যবসার বা কাজের কৌশল পরিবর্তন করে আরও পরিশ্রমী হওয়ার চেষ্টা করুন।

এ ছাড়া ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করুন: ‘আল্লাহুম্মাক ফিনি বি হালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, হারামের পরিবর্তে আপনার হালাল রুজি আমার জন্য যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিন।’ (জামে তিরমিজি: ৩৫৬৩)

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

পণ্য মজুতদারি ও সিন্ডিকেট: ইসলামের সতর্কবার্তা

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১০ জানুয়ারি ২০২৬

জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করলে যে সওয়াব

দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম দরুদ পাঠ

শিশুদের খেলার সঙ্গী হতেন নবীজি (সা.)

মৃত্যু ও পরকাল: অবিনশ্বর জীবনের অনিবার্য যাত্রা

প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির সওয়াব ও নির্মমতার শাস্তি

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

পবিত্র কোরআনে কলমের বন্দনা

নবীজির জীবন থেকে কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার শিক্ষা