হোম > ইসলাম

আপনার জিজ্ঞাসা

কেউ জাদু করেছে মনে হলে কী করবেন

মুফতি শাব্বীর আহমদ

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: শরিয়াহর আলোকে জাদু বা সিহরের বাস্তবতা কতটুকু? কোনো ব্যক্তি বা পরিবার জাদুগ্রস্ত হলে তাদের আচরণ ও শরীরে কী কী সুনির্দিষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায়? কোরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত শরিয়াহসম্মত উপায়ে এর স্থায়ী প্রতিরোধ ও প্রতিকার কীভাবে সম্ভব? জানতে চাই।

সাইফুল ইসলাম, গাজীপুর

উত্তর: ইসলামে জাদু বা সিহরের অস্তিত্ব একটি বাস্তব বিষয়, যা পবিত্র কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কালো জাদুকে হাতিয়ার বানিয়ে মানুষ অন্য মানুষের ক্ষতিসাধনে লিপ্ত হয়, যা পরকালের কথা ভুলে গিয়ে পার্থিব স্বার্থ অর্জনের এক অন্যায় প্রয়াস। মানুষ সাধারণত জিনের মাধ্যমসহ নানা উপায়ে জাদুটোনা করে থাকে, যা স্বাভাবিক চিকিৎসায় ধরা পড়ে না বা কাজ করে না।

জাদুর ইসলামিক সমাধান ও প্রতিকার

কারও ওপর জাদুর প্রভাব দেখা দিলে ভণ্ড কবিরাজ বা তান্ত্রিকদের কাছে যাওয়া সম্পূর্ণরূপে হারাম। কারণ, তাঁদের অনেকেই শিরকি বিষয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা করে থাকেন। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী এর সঠিক প্রতিকারগুলো হলো:

১. রুকইয়াহ (কোরআনিক চিকিৎসা): সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সুরা বাকারা এবং সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করা অথবা রোগীর ওপর ফুঁ দেওয়া।

২. সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও জিকির: আসরের পর বা মাগরিবের সময় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়ে রোগীকে ফুঁ দেওয়া। পাশাপাশি বেশি বেশি ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ এবং ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ পাঠ করা।

  • সুরা বাকারা তিলাওয়াত: যে বাড়িতে নিয়মিত সুরা বাকারা পাঠ করা হয়, সে বাড়িতে জাদুটোনা প্রভাব ফেলতে পারে না।
  • ঘুমানোর আগের আমল: ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে মুছে নেওয়া।
  • সাদাকাহ: গোপনে দান-সদকা করলে জাদুর প্রভাব দূর হতে সাহায্য মেলে।

আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা: জাদুকর বা তান্ত্রিক সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলবেন। যিনি একমাত্র আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখেন, তাঁর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

জাদু সন্দেহ হলে নিজে নিজে পরীক্ষা না করে একজন কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক অভিজ্ঞ রুকইয়া চর্চাকারীর সহায়তা নেওয়া উচিত। অবিশ্বাস্য ঝাড়ফুঁক, তাবিজ বা তান্ত্রিক প্রতারকদের থেকে সতর্ক থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিজের ইমানকে মজবুত রাখা আবশ্যক।

উত্তর দিয়েছেন, মুফতি শাব্বীর আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক