হোম > ইসলাম

শিরক থেকে বাঁচতে করণীয়

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান 

আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতার একক মালিক। মানুষের জীবনের আলো-ছায়া, সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ—সবই তাঁর সৃষ্টি ও হুকুমের অধীন। অরণ্যের একটি বৃক্ষপত্রও তাঁর অগোচরে এবং হুকুম ছাড়া ঝরে পড়ে না—এ সত্য প্রতিটি মুমিনের সুদৃঢ় বিশ্বাস। তবু প্রাত্যহিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে দেখা যায়, মানুষ অজান্তেই ইমানের সরল-সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। অথচ ইমানের সম্পদ যদি ধূলিসাৎ বা দুর্বল হয়ে যায়, তবে বান্দার জন্য উভয় জগতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

ইমান বিধ্বংসী অন্যতম মারাত্মক ব্যাধি হলো ‘শিরক’ বা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও একক ক্ষমতায় অন্য কাউকে অংশীদার করা। দুঃখজনক হলেও সত্য, দ্বীনি ইলমের অভাবে অনেকে অজান্তেই অলি-বুজুর্গ, পীর কিংবা মাশায়েখদের প্রতি ভক্তি দেখাতে গিয়ে এমন আচরণ করে বসেন, যা তৌহিদের মূলে আঘাত হানে। মনে রাখতে হবে—আকাবির ও বুজুর্গদের সম্মান করা ইসলামের শিক্ষা, কিন্তু কোনো কিছু দেওয়া বা কারও ভাগ্য পরিবর্তনের একক ক্ষমতা কেবলই মহান আল্লাহর। কোনো দরবারে হাদিয়া পাঠালে বা মানত করলেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে—এমন ধারণা ভ্রান্ত আকাইদের অন্তর্ভুক্ত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে ইরশাদ করেছেন, ‘আর তুমি আল্লাহকে ছাড়া এমন কাউকে ডেকো না, যে তোমার কোনো উপকারও করতে পারে না, অপকারও করতে পারে না। যদি তুমি তা করো, তবে নিশ্চিতভাবেই তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা ইউনুস: ১০৬)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: ৬০)

মানুষের জীবনে সংকট, রোগ-ব্যাধি ও অভাব-অনটন আসবে—এটাই পৃথিবীর নিয়ম। কিন্তু ইমানদারের শান হলো, সে বিপদে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধারণ করবে এবং সিজদায় অবনত হয়ে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের কাছে মিনতি জানাবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা সিজদার অবস্থাতেই তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়।