ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত কিয়ামুল লাইল। নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে মৌলিক বিধান হলো, এগুলো একাকী আদায় করা। নবীজি (সা.), সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেইনদের যুগে নিয়মিতভাবে নফল নামাজ জামাতে আদায় করার কোনো প্রচলন ছিল না। যদিও নবীজি (সা.) তাঁর পুরো জীবনে অল্প কয়েকবার নফল নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করেছেন। তবে সেগুলো সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ছিল।
রাসুল (সা.) কখনো পূর্বঘোষণা বা বিশেষ আয়োজন করে লোকসমাগম ঘটিয়ে নফল নামাজ জামাতে আদায় করেননি। বরং তিনি নিজ ঘরে বা কোনো সাহাবির ঘরে নফল নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন, তখন সেখানে উপস্থিত দু-একজন সাহাবি নিজে থেকেই নবীজি (সা.)-এর ইক্তিদা করতেন।
এসব বর্ণনা থেকে নফল নামাজের জামাতের প্রতি উৎসাহ দেওয়া এবং নফল নামাজের জামাতকে বেশি সওয়াবের কাজ মনে করার অবকাশ কোনোভাবেই প্রমাণিত হয় না। তাই এ ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামের মৌলিক কিছু নীতিমালা নির্ধারিত হয়েছে—
এই আলোচনার সারমর্ম হলো, নফল নামাজের জামাত করা কোনো মোস্তাহাব আমল নয়, বরং শর্ত সাপেক্ষে তা কেবল জায়েজ হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহিত করা বা এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করা জায়েজ নয়।
যদি কেউ রমজান মাসে জামাতের নামাজে কোরআন শরিফ খতম করতে চায়, তাহলে তারাবির জামাতে খতম করার সুযোগ রয়েছে। তারাবির জামাত যেকোনো স্থানে করা যেতে পারে। মসজিদেই হতে হবে, মহল্লার সবাই মিলে একটি জামাতে শরিক হবে—এমন কোনো শর্ত নেই।
সুতরাং খতমে কোরআনের প্রয়োজন তারাবির মাধ্যমে পূর্ণ করা সম্ভব। এর জন্য তাহাজ্জুদের জামাত করার প্রয়োজন নেই। (ইলাউস সুনান ৭ / ৯৭-৯৯, আদ্দুররুল মুখতার ২ / ৪৯, ফাতাওয়ায়ে রাহিমিয়া ৪ / ১৩৬)
লেখক: মুফতি মনসুরুল হক, প্রধান মুফতি ও শাইখুল হাদিস, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া ও জামিআতুল আবরার রাহমানিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা