ইসলামের বিভিন্ন হুকুম-আহকাম পালনের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ও মুস্তাহাব পরিভাষাগুলোর মুখোমুখি হই। সাধারণ দৃষ্টিতে ফরজ ও ওয়াজিব উভয়টি পালন করা অবশ্য-করণীয় মনে হলেও, ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এদের দলিল ও আমলি মর্যাদায় সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পার্থক্য রয়েছে।
শরিয়তের যেসব আদেশ পবিত্র কোরআনের স্পষ্ট আয়াত বা সুসংহত সহিহ হাদিসের মাধ্যমে অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত এবং যার প্রমাণের মধ্যে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই, তাকে ফরজ বলে।
ফরজ কাজ পালন করা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক। শরিয়তসম্মত ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ফরজ ত্যাগকারী মারাত্মক গুনাহগার বা ‘ফাসিক’ হিসেবে গণ্য হয়। তবে অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার কারণে কেউ যদি শরিয়তের কোনো ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে, তবে সে ইসলাম থেকে খারিজ বা ‘কাফির’ বলে গণ্য হবে।
১. ফরজে আইন: যা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ব্যক্তিগতভাবে পালন করা ফরজ। যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানের রোজা, সামর্থ্যবানদের জন্য জাকাত ও হজ।
২. ফরজে কিফায়াহ: যে দায়িত্ব সমাজের কিছু লোক আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হয়ে যায়, কিন্তু কেউ আদায় না করলে সমাজের সবাই গুনাহগার হয়। যেমন জানাজার নামাজ, দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা প্রদান।
শরিয়তের যেসব আদেশ পালন করার নির্দেশটি ফরজের তুলনায় সামান্য কম শক্তিশালী বা জন্নি (ধারণাপ্রসূত/অ-অকাট্য) দলিল দ্বারা প্রমাণিত, তাকে ওয়াজিব বলে।
বিতর নামাজ, দুই ঈদের নামাজ, সদকাতুল ফিতর এবং সামর্থ্যবানদের ওপর কোরবানি করার মতো বিধানগুলো ওয়াজিব। ওয়াজিবের ওপর আমল করাও অপরিহার্য। ওয়াজিব পালন করতেই হবে। বিনা ওজরে ওয়াজিব পরিত্যাগকারী গুনাহগার হবে। তবে যেহেতু এর দলিল ফরজের মতো শতভাগ অকাট্য নয়, তাই ওয়াজিব অস্বীকারকারীকে ‘কাফির’ বলা যায় না; তবে সে ‘ফাসিক’ বা পথভ্রষ্ট হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, জমহুর বা অধিকাংশ ফকিহর মতে ফরজ ও ওয়াজিবের মধ্যে এই পার্থক্য বিদ্যমান হলেও, কোনো কোনো ফকিহ ফরজ ও ওয়াজিবকে একই স্তরে গণ্য করেছেন।