হোম > ইসলাম

একসঙ্গে দুজন সালাম দিলে উত্তর দেবেন কে?

মুফতি শাব্বির আহমদ

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: কারও সঙ্গে দেখা হলে অনেক সময় দেখা যায়, দুজনেই একসঙ্গে সালাম দিয়ে ফেলি? এ ক্ষেত্রে কার সালাম গ্রহণ করা হবে এবং কে উত্তর দেবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান জানালে উপকৃত হবো।

কৌশিক ইসলাম, ধানমন্ডি, ঢাকা।

উত্তর: আপনার প্রশ্নটি খুবই বাস্তবসম্মত এবং দৈনন্দিন জীবনে বহুবার সম্মুখীন হওয়া একটি বিষয়। ইসলামে সালাম হলো শান্তির অভিবাদন, যা মুসলমানদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও ইমান বৃদ্ধি করে। সালাম দেওয়া সুন্নত হলেও এর জবাব দেওয়া ওয়াজিব। এই প্রেক্ষাপটে, দুজন ব্যক্তি যদি একই সময়ে একে অপরকে সালাম দেন, তাহলে ইসলামি শরিয়তে এর সমাধান নিম্নরূপ:

১. যদি দুজন একসঙ্গে সালাম দেন: যদি দুজন ব্যক্তি প্রায় একই মুহূর্তে বা একসঙ্গে একে অপরকে সালাম দেন (অর্থাৎ আগে-পরে হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না হয়), তবে ইসলামি আইন ও ফিকাহ শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকের ওপর একে অপরের সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব বা আবশ্যক হবে। অর্থাৎ যেহেতু উভয়ই প্রাথমিক অবস্থায় সালাম দিয়েছেন, তাই প্রত্যেকেই তাঁর সঙ্গীর সালামের জবাব দেওয়ার দায়িত্ব বহন করবেন। প্রত্যেকেই তাঁর সঙ্গীর সালামের উত্তর ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম, ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ’ বলে দেবেন। এটি সালামের ওয়াজিব হক আদায় করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়।

২. যদি সালাম আগে-পরে হয়ে যায়: যদি দেখা যায় যে, সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য আগে-পরে হয়ে গেছে (যদিও মনে হচ্ছে একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে), তাহলে বিধানটি ভিন্ন হবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী সালামটি পূর্ববর্তী সালামের জবাব হিসেবে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যক্তি ‘ক’ প্রথমে সালাম দিলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে ব্যক্তি ‘খ’ও সালাম দিলেন। এক্ষেত্রে ‘খ’-এর দেওয়া সালামটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ক’-এর সালামের জবাব হিসেবে ধর্তব্য হয়ে যাবে। তাই এই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে (আগে-পরে হলে) পরবর্তী সময়ে কারও জন্যই পুনরায় জবাব দেওয়া আবশ্যক হবে না।

তবে প্রথম ক্ষেত্রে যদি নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে দুজনই প্রায় একযোগে দিয়েছেন, তখন প্রত্যেকে উত্তর দেওয়া উত্তম ও ওয়াজিব।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

সালামের এই গুরুত্বপূর্ণ আমলটির ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় মনে রাখা ভালো:

  • জবাব দেওয়া ওয়াজিব: সালাম দেওয়া সুন্নত হলেও এর জবাব দেওয়া ওয়াজিব। তাই কেউ সালাম দিলে স্পষ্টভাবে তা শুনিয়ে জবাব দিতে হবে।
  • আদব রক্ষার্থে পাল্টা সালাম নয়: বড় বা শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি সালাম দিলে অনেকে আদব দেখানোর জন্য সালামের জবাব না দিয়ে পাল্টা সালাম দিয়ে থাকেন। এটি নিয়ম পরিপন্থী। বরং সালামের জবাব স্পষ্ট করে দিয়ে যদি কোনো কথা বলতে চান, তবে তা বলাই শ্রেয়।
  • অসুবিধাজনক অবস্থায় সালাম পরিহার: এমন অবস্থায় কাউকে সালাম দেওয়া উচিত নয়, যখন তাঁর জন্য সালামের জবাব দেওয়া কষ্টকর বা অপছন্দনীয় হয় (যেমন প্রস্রাবরত অবস্থায়, বাথরুমের ভেতরে বা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ আমলে মগ্ন থাকা অবস্থায়)।

সুতরাং, আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়—একসঙ্গে দুজনই সালাম দিলে প্রত্যেককেই তাঁর সঙ্গীর সালামের জবাব দিতে হবে, যেন সালামের ওয়াজিব হক আদায় হয়।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

৯৯টি কবিরা গুনাহের তালিকা ও বাঁচার উপায়

আশরাফ আলী থানভি: আধ্যাত্মিক জাগরণের কালজয়ী মনীষী

রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৩ মার্চ ২০২৬

কোরআনে বর্ণিত গুনাহ মাফের ৮ দোয়া

রেশমি রুমাল আন্দোলনের অগ্রদূত উবায়দুল্লাহ সিন্ধি

সিগারেটের ধোঁয়া নাকে গেলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

নবীজির দোয়ায় সামান্য খাদ্যে অফুরন্ত বরকত

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০২ মার্চ ২০২৬

আল্লাহর সাহায্য লাভের ২ দোয়া