ইসলামের পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের অন্যতম হলো সালাত বা নামাজ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারিত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) ও সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিমের ওপর আবশ্যক বা ফরজ। এই পাঁচ ওয়াক্তের সর্বশেষ নামাজ হলো এশার নামাজ। আরবিতে যাকে বলা হয় صلاة العشاء; সালাতুল ইশা।
যেহেতু ইসলামি দিনপঞ্জি অনুযায়ী সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে নতুন দিন সূচিত হয়, তাই ওই দিক থেকে এশার নামাজ দিনের দ্বিতীয় নামাজ; তবে স্বাভাবিক দৈনিক হিসেবে এটি দিনের শেষ ও পঞ্চম নামাজ।
এশার ওয়াক্তে সব মিলিয়ে ১৭ রাকাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করা যায়। তবে গুরুত্ব ও বাধ্যবাধকতার নিরিখে এশার নামাজকে প্রধানত তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়:
অর্থাৎ, একজন মুসলিমের জন্য এশার ওয়াক্তে আবশ্যিক নামাজ হলো ৯ রাকাত (৪ রাকাত ফরজ + ২ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা + ৩ রাকাত বিতর)।
এর সঙ্গে ফরজের আগে চার রাকাত সুন্নতে গায়রে মুআক্কাদা (মুস্তাহাব), ফরজের পরে দুই রাকাত নফল ও বিতরের পরে দুই রাকাত নফল যুক্ত করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ থেকে ১৭ রাকাত।
পশ্চিম আকাশের লাল ও সাদা আভা (শাফাক) বিলুপ্ত হওয়ার পর মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হয় এবং এশার সময় শুরু হয়।
সর্বোত্তম সময়: রাতকে তিন ভাগ করে প্রথম এক ভাগ সময়ের মধ্যে এশার নামাজ আদায় করা সবচেয়ে উত্তম।
জায়েজ সময়: মধ্যরাত পর্যন্ত সাধারণ সময়ে আদায় করা জায়েজ।
মাকরুহ সময়: কোনো বিশেষ ওজর ছাড়া মধ্যরাতের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত দেরি করে পড়া অনুত্তম বা মাকরুহ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে ইবাদত করল।’ (সহিহ মুসলিম)
নামাজে আরবি বা বাংলা যেকোনো ভাষায় মনে মনে নিয়ত বা সংকল্প করা যায়। মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে জানা থাকার সুবিধার্থে দেওয়া হলো:
বাংলা নিয়ত: ‘আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে এশার চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি। (ইমামের পেছনে হলে: এই ইমামের পেছনে ইক্তেদা করছি)—আল্লাহু আকবার।’
পড়ার নিয়ম: চার রাকাতবিশিষ্ট অন্যান্য ফরজ নামাজের মতোই প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার পর অন্য সুরা মেলাতে হয়। দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহহুদ (আতাহিয়্যাতু) পড়ে উঠে দাঁড়িয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে শুধু সুরা ফাতিহা পড়ে নামাজ শেষ করতে হয়।
বাংলা নিয়ত: ‘আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে এশার দুই রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি—আল্লাহু আকবার।’
পড়ার নিয়ম: এটি দুই রাকাতবিশিষ্ট সাধারণ সুন্নতের নিয়মেই পড়া হয়। উভয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পর সুরা মেলাতে হয়।
বিতর নামাজের ওয়াক্ত এশার নামাজের পর থেকেই শুরু হয়। তবে যিনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করেন, তিনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদ শেষে বিতর পড়বেন—এটিই উত্তম। আর যাঁর শেষ রাতে জাগার সম্ভাবনা কম, তিনি এশার পরপরই বিতর পড়ে নেবেন।
বাংলা নিয়ত: ‘আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে তিন রাকাত বিতরের ওয়াজিব নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি—আল্লাহু আকবার।’
শরিয়তের পরিভাষায় কোনো ব্যক্তি যদি সফরকালে (প্রায় ৪৮ মাইল বা ৭৭ কিমি দূরত্বের সফরে) থাকেন, তবে তিনি এশার চার রাকাত ফরজ নামাজকে সংক্ষিপ্ত (কসর) করে দুই রাকাত আদায় করবেন। সফরের অবস্থায় ফরজের পরের দুই রাকাত সুন্নত ও তিন রাকাত বিতর যথারীতি আদায় করতে হবে।