হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

‘লুটের মাল বিজয়ীরাই পায়’—ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক তেল চুক্তি সম্ভবত ‘এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় চুক্তি।’ এই চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘লুটের মাল বিজয়ীরাই পায়।’ হংকং থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে করা তেল চুক্তির কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। এরপর ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার নেতাদের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে’, যাতে দেশটির জন্য ‘আরও ভালো ভবিষ্যৎ’ তৈরি করা যায়।

গত মাসে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সরকারের সঙ্গে একটি তেল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বলেও জানান ট্রাম্প। তাঁর দাবি, চুক্তিটির আওতায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। এই চুক্তির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি যুদ্ধ ছিল, কিন্তু সম্ভবত এটিই এখন পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় চুক্তি। আর আপনারা জানেন—লুটের মাল বিজয়ীরাই পায়।’

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্রের কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ পাবে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকারও থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের। চুক্তির আওতাভুক্ত কয়েকটি তেলক্ষেত্র আগে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোপেকের মতো কোম্পানি পরিচালনা করত বা সেগুলো চীনা কোম্পানিগুলোর লক্ষ্য ছিল। একই সময়ে চীনা ঋণদাতাদের কাছে ভেনেজুয়েলার অন্তত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ এখনো বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ট্রাম্পের ভাষণের সময় স্থির ও গম্ভীর মুখে বসে ছিলেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক সংবাদদাতা সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষ থেকে জানান, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সরকারের প্রশংসা করলেও রদ্রিগেজকে পুরো বক্তব্যের সময় একবারও করতালি দিতে দেখা যায়নি।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান প্রমাণ করেছে যে ‘যুক্তরাষ্ট্র আর পশ্চিম গোলার্ধের কোথাও আমেরিকার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন শক্তিকে অবস্থান তৈরি করতে দেবে না।’ প্রয়োজন হলে ওয়াশিংটন সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে বলেও জানান তিনি।

কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম না নিয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো পশ্চিম গোলার্ধকে ‘শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি প্রতিপক্ষদের দ্বারা অনুপ্রবেশের’ সুযোগ দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার সামরিক সরঞ্জাম নিয়েও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার কাছে অন্যান্য দেশ থেকে পাওয়া ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত সরঞ্জাম’ ছিল, কিন্তু মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সেগুলো কাজ করেনি। কারাকাস রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং চীনে তৈরি রাডারের ওপর নির্ভর করেছিল। চীন এসব রাডারকে স্টেলথ বিমান শনাক্ত করতে সক্ষম বলে প্রচার করেছিল।

ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গের পাশাপাশি ট্রাম্প পশ্চিম গোলার্ধে মাদক চোরাচালান ও কার্টেল দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। মাদক চক্রগুলোকে তিনি ‘পশ্চিম গোলার্ধের আইএসআইএস’ বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্পের দাবি, সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে সমুদ্রপথে মাদকের প্রবাহ ৯৭ শতাংশ কমেছে। ইউএস সাদার্ন কমান্ডের হিসাবে, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই অভিযানে অন্তত ২৩১ জন নিহত হয়েছে।

মেক্সিকোকে তিনি ‘কার্টেল সহিংসতার কেন্দ্রস্থল’ বলে উল্লেখ করলেও দেশটির সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রশংসা করেন। মেক্সিকো সরকার অবশ্য দেশটির ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়টি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া ট্রাম্প বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার ‘পতন হবে’। তাঁর এই মন্তব্যের পর কিউবার প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের হল থেকে বেরিয়ে যায়। ট্রাম্প বলেন, ‘কমিউনিজম কখনো আমেরিকায় আসবে না, কিন্তু কিউবায় স্বাধীনতা আসবে। আর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মেক্সিকোতে আসবে।’