এপস্টেইন-কাণ্ডে মুখ খুললেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো ‘প্রতিটি মুহূর্তের জন্য’ অনুতপ্ত বলে জানান তিনি। যদিও বিল গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ জানিয়েছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি।
গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ বিপুলসংখ্যক এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশ করে। এসব নথির মধ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির ই-মেইল বিনিময়ের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সেসবে পাওয়া তথ্যে কোথাও ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব, কোথাও অবৈধ আর্থিক লেনদেন আবার কোথাও ব্যক্তিগত ছবির অস্তিত্ব মিলেছে।
প্রকাশিত নথির মধ্যে থাকা একটি খসড়া ই-মেইলে এপস্টেইন দাবি করেন, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। ওই ই-মেইলে লেখা হয়, বিল গেটসকে ‘রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরিণতি সামাল দিতে’ ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়েছিল। এ ছাড়া বিবাহিত নারীদের সঙ্গে তাঁর অবৈধ সাক্ষাতের সুবিধা করে দেওয়ার কাজও করতে হয়।
গতকাল বুধবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজকে বিল গেটস বলেন, ‘আমি তাঁর (এপস্টেইনের) সঙ্গে যতটা সময় কাটিয়েছি, তার প্রতিটা মিনিটের জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি ক্ষমা চাই।’
ই-মেইলের তথ্য মিথ্যা দাবি করে বিল গেটস বলেন, ‘ওই ই-মেইল কখনো পাঠানো হয়নি। ই-মেইলের তথ্যগুলো মিথ্যা। আমি জানি না তাঁর চিন্তাভাবনা কী ছিল। তিনি কোনোভাবে আমাকে আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন কি না, জানি না।’
এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কয়েক মিলিয়ন নথি প্রকাশের পর বিল গেটসের এক মুখপাত্রও এভাবেই বিল গেটসের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। মুখপাত্র বলেন, এই নথিগুলো কেবল এটাই প্রমাণ করে, গেটসের সঙ্গে স্থায়ী কোনো সম্পর্ক গড়ে তুলতে না পারায় এপস্টেইন হতাশ ছিলেন এবং কাউকে ফাঁসাতে বা মানহানি করতে তিনি কত দূর যেতে পারতেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ধনকুবের ও দাতব্যকর্মী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ বলেন, এসব নথি তাঁর দাম্পত্যজীবনের ‘খুব, খুব বেদনাদায়ক সময়ের স্মৃতি’ ফিরিয়ে এনেছে। ২০২১ সালে বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
মেলিন্ডা বলেন, ‘এসব বিষয় সামনে এলেই আমার ভীষণ কষ্ট হয়। এখনো কিছু প্রশ্ন আছে, আমার সাবেক স্বামী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি। এর সবটা আমি জানিও না। এই বিষয়গুলোর উত্তর তাঁদের দিতে হবে, আমাকে নয়।’
নাইন নিউজকে বিল গেটস জানান, ২০১১ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরবর্তী তিন বছরে তিনি বেশ কয়েকবার তাঁর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন। তবে তিনি কখনো এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপে যাননি এবং কোনো নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেন।
বিল গেটস আরও বলেন, পুরো বিষয়টি ছিল এমন, তিনি (এপস্টেইন) অনেক ধনী ব্যক্তিকে চিনতেন এবং দাবি করতেন যে, তিনি তাঁদের দিয়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে অর্থ দিতে পারবেন। এখন পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, সেটি ছিল একটি ভুল পথ।
এপস্টেইন ফাইলসে বহু জনপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে, যাঁদের অনেকেই আগে এ ধরনের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন বা গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। বছরের পর বছর ধরে বিল গেটস ও তাঁর প্রতিনিধিরাও এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি আগে বলেছিলেন, তাঁরা কেবল ‘কয়েকবার নৈশভোজে’ মিলিত হয়েছিলেন, যেখানে একটি দাতব্য প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, যা পরে আর বাস্তবায়িত হয়নি।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যে বিপুল পরিমাণ নথি, ই-মেইল ও ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলোতে এপস্টেইনের বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে অনেক তারকা, শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিশ্বনেতার নাম রয়েছে—যাঁদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কিছু ক্ষেত্রে ২০০৮ সালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার দায়ে দণ্ডিত হওয়ার পরও অব্যাহত ছিল।
জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের এক কারাগারে মারা যান। সে সময় তিনি মানব পাচার-সংক্রান্ত একটি যৌন অপরাধ মামলায় বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন।