হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

কানাডা থেকে স্বাধীন হতে চায় আলবার্টা, গণভোটের তোড়জোড়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কানাডা থেকে স্বাধীনত হতে চায় আলবার্টা প্রদেশ। ছবি: এএফপি

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তারা স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ৩ লাখ স্বাক্ষর নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। গণভোট বিবেচনার জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ লাখ ৭৮ হাজার স্বাক্ষর।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মিচ সিলভেস্টেয়ার বলেন, ‘আজকের দিনটি আলবার্টার ইতিহাসে ঐতিহাসিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি পরবর্তী ধাপের প্রথম পদক্ষেপ। আমরা তৃতীয় রাউন্ড পার হয়ে গেছি, এখন আমরা স্ট্যানলি কাপ ফাইনালে।’ তিনি মূলত কানাডার জনপ্রিয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্টের প্রসঙ্গ টেনে এ কথা বলেন।

তবে স্বাধীনতার পক্ষে ভোট এলেও এরপর শুরু হবে দীর্ঘ, অনিশ্চিত ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। এর মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জ, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িয়ে থাকবে। তারপরও সম্ভাব্য এই গণভোট নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে কানাডার কেন্দ্রীয় ক্ষমতা নিয়ে আলবার্টার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং আরও বেশি স্বায়ত্তশাসনের দাবি।

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন যেসব জোর পাচ্ছে

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা গত সোমবার জানিয়েছেন, তারা প্রায় ৩ লাখ ২ হাজার স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন। যা গণভোট বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় ১ লাখ ৭৮ হাজার স্বাক্ষরের চেয়ে অনেক বেশি। আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথের বলেছেন, আবেদনপত্রে যথেষ্ট স্বাক্ষর পাওয়া গেলে তিনি গণভোটের পথে এগোবেন। যদিও তিনি নিজে কানাডা থেকে আলবার্টার স্বাধীনতার পক্ষে নন।

গণভোটে ভোটারদের কী প্রশ্ন করা হবে?

প্রস্তাবিত এই উদ্যোগ ব্যালটে উঠলে ভোটারদের জিজ্ঞেস করা হবে—‘আপনি কি একমত যে আলবার্টা প্রদেশ কানাডার অংশ হওয়া বন্ধ করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে?’

এটি কি নিশ্চিত করে যে গণভোট হবেই? আর আলবার্টা কি সত্যিই কানাডা থেকে আলাদা হতে পারবে? সহজ জবাব হলো—শুধু প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ করলেই গণভোট নিশ্চিত হয়ে যায় না। আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ইলেকশন আলবার্টাকে এখনো আবেদনকারীদের নাম যাচাই করতে হবে। তবে আদালতের এক আদেশের কারণে সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোও আইনি চ্যালেঞ্জ করেছে। তাদের দাবি, আলাদা হয়ে যাওয়ার উদ্যোগ তাদের চুক্তিভিত্তিক অধিকার লঙ্ঘন করবে। এ ছাড়া প্রশ্ন রয়েছে, গণভোট হলেও সেটি পাস হওয়ার মতো সমর্থন আদৌ পাওয়া যাবে কি না। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ শতাংশ বাসিন্দা এমন উদ্যোগকে সমর্থন করেন।

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতার পেছনে কী কারণ?

আলবার্টায় স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট কখনো এতটা কাছাকাছি না এলেও, প্রদেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বহু দশক ধরেই স্বাধীনতাপন্থী মনোভাবের উপস্থিতি রয়েছে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের এই প্রদেশের বহু বাসিন্দার বিশ্বাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতির দিক থেকে আলবার্টা কানাডার বাকি অংশের চেয়ে আলাদা।

তেলসমৃদ্ধ এই পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, কানাডার রাজধানী অটোয়ায় বসে নেওয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। অথচ জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিশাল শিল্পের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান অত্যন্ত বড়।

পরিবেশগত বিধিনিষেধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উদ্যোগও বড় ধরনের বিরোধের উৎস হয়ে উঠেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের দাবি, আলবার্টার প্রধান শিল্পকে এমন সব আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, যাদের প্রদেশটির বাস্তবতা সম্পর্কে খুব কম ধারণা আছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সিলভেস্টেয়ার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা কানাডার বাকি অংশের মতো নই। আমরা শতভাগ রক্ষণশীল। আমাদের ওপর এমন লিবারেলরা শাসন করছে, যারা আমাদের মতো চিন্তা করে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের শিল্প বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

আলবার্টাই একমাত্র অঞ্চল নয়, যার সঙ্গে কানাডার কেন্দ্রীয় সম্পর্ক জটিল। ফরাসিভাষী প্রদেশ কুইবেকেও বহু দশকের পুরোনো জাতীয়তাবাদী আন্দোলন রয়েছে। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে তারা কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তবে সেই আন্দোলনের জনপ্রিয়তা কমেছে। মার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, ১৯৯৫ সালের গণভোটে অল্প ব্যবধানে পরাজয়ের পর এবারই বিচ্ছিন্নতাবাদ সবচেয়ে কম সমর্থন পাচ্ছে। তবু বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক দল পার্তি কুইবেকোইস এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

স্বাধীনতার এই দাবির বিরুদ্ধে কি সমালোচনা হয়েছে

সব স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের মতোই, কানাডা থেকে আলবার্টার বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রচেষ্টাও তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে। আলবার্টার সাবেক ডেপুটি প্রিমিয়ার এবং কানাডার ফেডারেল পরিচয়ের দৃঢ় সমর্থক থমাক লুকাজুক এএফপিকে বলেন, ‘এটি এমন কিছুর প্রতিনিধিত্ব করে, যা অধিকাংশ আলবার্টাবাসী ও কানাডীয় সমর্থন করে না। এটি এক ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহিতা।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সমর্থনও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প এর আগে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার ধারণা তুলে ধরে কানাডীয়দের ক্ষুব্ধ করেছিলেন। সমালোচকদের মতে, আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন কানাডার জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করছে। জানুয়ারিতে স্বাধীনতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, আলবার্টা যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হবে।

তিনি বলেন, ‘আলবার্টার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমার মনে হয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রমুখী হওয়া উচিত। আলবার্টা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক অংশীদার। তাদের অসাধারণ সম্পদ রয়েছে। আলবার্টার মানুষ খুবই স্বাধীনচেতা।’

থমাস লুকাজুক বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নির্বাচিত প্রতিনিধি নয়। তারা কেবল আলবার্টায় বসবাসরত কানাডার নাগরিক। অথচ তারা প্রতিনিধি দল গঠন করে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সাক্ষাৎ পাচ্ছে। এটি অবশ্যই তাদের ভীষণভাবে উৎসাহিত করছে।’

প্রস্তাবিত গণভোট সফল হোক বা না হোক, এই ঘটনা আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে নতুন গতি দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। স্বাধীনতার সমর্থক ও স্বতন্ত্র ইতিহাসবিদ মিশেল ওয়াগনার বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্থায়ী পরিবর্তন আনবে।’ তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন ‘এভাবে হঠাৎ করে হারিয়ে যাবে না।’

এরপর কী

আগামী ১৯ অক্টোবর সাংবিধানিক প্রশ্ন, অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে যে বৃহত্তর গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে, তার অংশ হিসেবেই প্রদেশজুড়ে স্বাধীনতার প্রশ্নে ভোট হতে পারে। অর্থাৎ অক্টোবরেই এই ব্যালট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ১০ এপ্রিল বিচারপতি শাইনা লিওনার্ড স্বাধীনতা-সংক্রান্ত আবেদনপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়ার ওপর এক মাসের স্থগিতাদেশ দেন। কয়েকটি ফার্স্ট নেশনস গোষ্ঠীর আইনি চ্যালেঞ্জের পর এই আদেশ দেওয়া হয়। তাদের দাবি, আলাদা হওয়ার উদ্যোগ তাদের চুক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করবে।

তবে ওই রায়ে স্বাক্ষর সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়নি। আলবার্টার ফার্স্ট নেশনস গোষ্ঠীগুলোর করা আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আর আদালত যদি আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াই অর্থহীন হয়ে যেতে পারে।

নারী বসের হাতে ‘যৌন নিগ্রহের’ শিকার যুবক ব্যাংকার, ঘুষ দিয়ে মেটাতে চেয়েছিল জেপি মরগান

এপস্টেইনের ‘সুইসাইড নোট’ প্রকাশ, কী লেখা ছিল এতে

যে জীবন ছেড়ে গেলেন টেড টার্নার

সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা ও মিডিয়া মোগল টেড টার্নার আর নেই

চুক্তিতে রাজি না হলে এবারের হামলা হবে আরও ভয়াবহ: ট্রাম্প

এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, যা আছে এতে

ইরানে মার্কিন ‘আক্রমণ শেষ’, কেন পিছু হটছেন ট্রাম্প

লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর পিএইচডি দিচ্ছে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়

ইরানের হামলার পরও হেগসেথ বললেন—যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি

জাহাজে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ মানুষ-মানুষেও ঘটেছে—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা