যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘গোল্ডেন ডোম’-এর বাজেট আরও ১০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ত্বরান্বিত করতে এই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকল্পের পরিচালক এ তথ্য জানান।
পরিচালক আরও জানান, নতুন করে লকহিড মার্টিন, আরটিএক্স এবং নর্থরপ গ্রামানের মতো বিশ্বের তিনটি শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থা এই প্রকল্পের মূল ঠিকাদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান ভূমিভিত্তিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর মিসাইল, সেন্সর ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সিস্টেম। তবে এর বিশেষত্ব হলো মহাকাশভিত্তিক অংশ, যা কক্ষপথ থেকে শত্রুপক্ষের হামলা শনাক্ত, ট্র্যাকিং ও প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে। এতে উন্নত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ও কক্ষপথে স্থাপনযোগ্য অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত ‘ম্যাকালিস ডিফেন্স প্রোগ্রামস’ কনফারেন্সে স্পেস ফোর্সের জেনারেল মাইকেল গুটলেইন জানান, তিনটি বিশেষ কর্মসূচিকে দ্রুত সম্পন্ন করতে এই বাড়তি তহবিল ব্যবহার করা হবে। এগুলো হলো—অ্যাডভান্সড মিসাইল ট্র্যাকিং ইনিশিয়েটিভ, যাতে থাকবে ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণের উন্নত ব্যবস্থা; স্পেস ডেটা নেটওয়ার্ক, এখানে থাকবে মহাকাশে তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদানের নেটওয়ার্ক; এইচবিটিএসএস, এটি হলো হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক ট্র্যাকিং স্পেস সেন্সর। এটি মূলত শত্রুপক্ষের হাইপারসনিক মিসাইল শনাক্ত ও ট্র্যাক করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
তবে জেনারেল গুটলেইন এই প্রকল্পের খরচ ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ওঠা বিতর্কগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগের ব্যয়বহুল যুদ্ধকালীন সিস্টেমগুলোর চেয়ে ভিন্ন এবং সস্তা পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে। আগামী এক দশকের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতার এই সিস্টেম তৈরি করা হবে।
গুটলেইন ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল’ সিস্টেমকে এই প্রকল্পের ‘সিক্রেট সস’ বা প্রধান শক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে ৯টি কোম্পানির একটি কনসোর্টিয়াম বা জোট এই কাজ করছে। এই জোটের কার্যক্রম অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং পারফরম্যান্স খারাপ হলে যেকোনো সদস্যকে জোট থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ডিরেক্টেড এনার্জি উইপন’ (যেমন; লেজার অস্ত্র) এবং পরবর্তী প্রজন্মের ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআই ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গুটলেইন মনে করেন, এই প্রযুক্তিগুলো প্রতিটি হামলা প্রতিহত করার খরচ কমিয়ে আনবে এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।