যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। ১৬ এপ্রিল থেকে তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের স্বজনেরা।
নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন জামিল লিমন (২৭) ও নাহিদা বৃষ্টি (২৭)। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা পুলিশ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিল ট্যাম্পা এলাকা থেকে তাঁরা নিখোঁজ হন। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, গোয়েন্দারা বিভিন্ন সূত্র ধরে এগোচ্ছেন এবং হিলসবরো, পিনেলাস কাউন্টিসহ একাধিক স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ লিমনের পরিবারের বরাতে জানিয়েছে, তিনি পরিবেশবিজ্ঞানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গবেষণা করছেন এবং চলতি সপ্তাহেই তাঁর পিএইচডি থিসিস জমা দেওয়ার কথা ছিল। লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, লিমনের নিখোঁজ হওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক।
লিমনের বন্ধু ওমর হোসেন জানান, যেদিন লিমন নিখোঁজ হন, সেদিন তিনি ল্যাবের শেয়ার্ড আউটলুক ক্যালেন্ডারে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ লিখে রেখেছিলেন, যাতে থিসিসের কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন।
জুবায়ের আহমেদ জানান, ১৪ এপ্রিল লিমন তাঁর পরিবারকে বলেছিলেন থিসিসের প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন তাঁকে ফোন দেওয়া না হয়। এরপর ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে তাঁকে ট্যাম্পার বাসভবনে শেষ দেখা গিয়েছিল।
এদিকে, নাহিদা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছেন। তাঁকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ইউএসএফ ট্যাম্পা ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। নাহিদার বড় ভাই জাহিদ প্রান্ত জানান, নাহিদা প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যে, তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়নি। আমার পরিবার পুরো ভেঙে পড়েছে।’
জানা গেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী একই বন্ধু মহলের। তাঁদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না, তা বন্ধুদের জানা না থাকলেও লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, তাঁরা একে-অপরকে পছন্দ করতেন। ভবিষ্যতে বিয়ে করার কথাও ভেবেছিলেন। তবে তাঁরা পড়াশোনাকেই অগ্রাধিকার দিতেন।
পরিবার ও বন্ধুরা বলছে, লিমন ও নাহিদার হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। কারণ, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে দেশে ফেরার জন্য তাঁদের দুজনেরই বাংলাদেশে যাওয়ার বিমানের টিকিট কাটা ছিল। লিমনের ভাই আক্ষেপ করে বলেন, ‘দুজন মানুষ হুট করে কোথাও উধাও হয়ে যায় কী করে?’