হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে প্রেসিডেন্টের ভিডিও বার্তা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নিউইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের (ফ্র্যাটারনিটি) আবাসনে এক নারী শিক্ষার্থীকে মাদক প্রয়োগ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কটলিকফ বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও ভালো করতে হবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিবিসি জানায়, গতকাল শনিবার রাতে প্রকাশিত আট মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় কটলিকফ অভিযোগগুলোকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে মাদক ও অ্যালকোহল ব্যবহারের সংস্কৃতি এবং অভিযোগটির তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগকারী নারীকে মামলায় জেন ডো নামে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর ২০ বছর বয়সে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় তিনি ‘চি ফাই’ ভ্রাতৃসংঘের সাত সদস্যের দ্বারা কয়েক ঘণ্টা ধরে যৌন নিপীড়নের শিকার হন। এই ঘটনায় অ্যালকোহল ও কেটামিন নামের মাদক ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন তিনি। ওই সময় তিনি নেশাগ্রস্ত থাকায় সম্মতি দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পুলিশ সে সময় তদন্ত করলেও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। গত মাসে দায়ের করা এক দেওয়ানি মামলায় জেন ডো অভিযোগ করেন, তাঁকে সুরক্ষা দিতে এবং অভিযুক্তদের যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট কটলিকফ বলেন, অভিযোগটি কীভাবে সামলানো হয়েছে, তা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে আপসহীন সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং সম্মতির অর্থ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।

এদিকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিবিসিকে এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে দ্রুত ও ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে ভ্রাতৃসংঘ ও নারী ভ্রাতৃসংঘগুলোর (সোরোরিটি) ভূমিকা পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন কটলিকফ।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে মামলাটি পর্যালোচনার দায়িত্ব দিয়েছেন। কটলিকফ এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি আইন প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন পর্যালোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন।