হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

কিছু অলিগার্ক স্টারলিংককে ভারতে ঢুকতে দিচ্ছে না: মাস্ক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইলন মাস্ক। ছবি: এএফপি

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে দেশটির কতিপয় অলিগার্ক বা প্রভাবশালী ধনকুবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি, ভারতীয় জনগণের ওপর নিজেদের ‘একচেটিয়া আধিপত্য’ বজায় রাখতেই এই প্রভাবশালী গোষ্ঠী স্টারলিংককে বাজারে আসতে বাধা দিচ্ছে। দেশটির হাজার হাজার গ্রামে এখনো ৪–জি নেটওয়ার্ক না পৌঁছানোর খবরের জবাবে এক্সে পোস্ট করে মাস্ক এই পদক্ষেপকে ‘ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, ইলন মাস্ক নাম প্রকাশ না করে ভারতের কতিপয় অলিগার্ক বা প্রভাবশালী ধনকুবেরের বিরুদ্ধে ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভারতীয় জনগণের ওপর নিজেদের ‘একচ্ছত্র আধিপত্য ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রাখতেই তারা এই বাধা সৃষ্টি করছে।

গত মে সরকারি তথ্যের সূত্র ধরে এক্সে পোস্ট করা একটি তথ্যের জবাবে গতকাল বুধবার মাস্ক এই মন্তব্য করেন। সেই তথ্যে বলা হয়েছিল, ভারতের নিবন্ধিত ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রামে এখনো ৪জি নেটওয়ার্কের সুবিধা পৌঁছায়নি। মাস্ক এর আগেও বলেছিলেন, ভারতের গ্রামীণ এবং সেবা-বঞ্চিত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছাতে স্টারলিংক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এক্স পোস্টে মাস্ক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, ভারতীয় জনগণের ওপর নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে কিছু প্রভাবশালী আমাদের পথ আটকে দিচ্ছে। তারা কারা—তা আপনারা সহজেই অনুমান করতে পারেন...।’ টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান মাস্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম না তুলে আরও যোগ করেন, ‘এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ!’

ভারতে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত স্টারলিংক

ভারতীয় বাজারে প্রবেশের নতুন উদ্যোগ নেওয়ার এক মাসের কিছু বেশি সময় পর মাস্কের এই বক্তব্য সামনে এল। অবশ্য এর আগে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে স্টারলিংক তুলনামূলকভাবে মেপে কথা বলেছিল। স্টারলিংক বিজনেস অপারেশন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রায়ার বলেছিলেন, ভারতে সেবা চালু করার প্রস্তুতি হিসেবে তারা বিগত পাঁচ বছর ধরে ভারতীয় নিয়ামক সংস্থা (রেগুলেটর), টেলিকম অপারেটর এবং এই শিল্পের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছেন।

অনুষ্ঠানের মূল আয়োজনের আগের দিন ড্রায়ার বলেন, ‘ভারতের নিরাপত্তা নীতি ও অন্যান্য বিধিমালার কথা মাথায় রেখে আমরা বিশেষভাবে ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম সাজিয়েছি। আমরা ভারতে সুরক্ষার প্রতিটি স্তর সুনিশ্চিত করেছি এবং ভারতীয় ব্যবহারকারীদের ডেটা বা তথ্য ভারতের ভেতরেই সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা রেখেছি।’ তিনি জানান, স্টারলিংক ইতোমধ্যেই ভারতে বিনিয়োগ করেছে এবং শত শত অ্যান্টেনা সম্বলিত ২০টি গেটওয়ে সাইট বা মূল সংযোগ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, ‘ভারতে সেবা দিতে আমরা আমাদের সমস্ত কার্যক্রম পুরোপুরি প্রস্তুত করে রেখেছি।’

ড্রায়ার আরও জানান, বর্তমানে মহাকাশে স্টারলিংকের ১১ হাজার স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ চালু রয়েছে এবং বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে তাদের সেবা বিস্তৃত। দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্টারলিংক মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সংযোগ দিতে সক্ষম। তাঁর ভাষায়, ‘স্টারলিংকের সাহায্যে মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা না করে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারে।’

সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায়

ভারতে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহের মাধ্যমে যোগাযোগ সেবা দেওয়ার লাইসেন্স স্টারলিংকের রয়েছে। তবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় তারা এখনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। কোম্পানিটির কাছে ইতোমধ্যেই ‘গ্লোবাল মোবাইল পার্সোনাল কমিউনিকেশন বাই স্যাটেলাইট’ (জিএমপিসিএস) অনুমোদন রয়েছে এবং ২০২৫ সালে ‘ইন-স্পেস’ তাদের প্রথম প্রজন্মের কন্সটেলেশন বা স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের অনুমোদন দিয়েছিল। তবে স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্তপূরণের বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। এর মধ্যেই সরাসরি মোবাইল হ্যান্ডসেটে ইন্টারনেট দেওয়ার প্রযুক্তিসহ আরও বড় আকারের ‘জেন–২’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের অনুমোদনের জন্য স্টারলিংক নতুন করে জোর তৎপরতা শুরু করেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া আবারও স্পষ্ট করে জানান, ভারতে সেবা শুরু করার আগে স্টারলিংককে অবশ্যই সমস্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।

ইরানের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে—যেখানে স্টারলিংক লাইসেন্স ছাড়াই সেবা চালু করেছিল বলে জানা যায়—টেলিকম মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে, বিদ্যমান নিরাপত্তা নিয়মাবলি সকল অপারেটরের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে নিরাপত্তা বিধিমালার সুনির্দিষ্ট একটি কাঠামো রয়েছে। যেকোনো অপারেটর যদি সেই নিয়মগুলো মেনে চলে, তবেই তাদের ভারতে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে।’