ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের শহর আরাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় বহু ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এই হামলার পর ৮৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।
আরাদ শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে এই ঘটনাকে যুদ্ধের ‘এক কঠিন সন্ধ্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামলার পর তিনি আরাদ শহরের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন।
নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, তিনি এই সময়ে মাঠে কাজ করা জরুরি ও উদ্ধারকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবেন। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে মানুষকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘সব ফ্রন্টে আমাদের শত্রুদের ওপর হামলা চালিয়ে যেতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ ইসরায়েলি শহর ডিমোনাতেও হামলা হয়েছে। এখানেও অনেকে আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ইরানের ইসফাহানের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক স্থাপনা নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার পরই ইরান পাল্টা আক্রমণ আরও জোরদার করে বলে জানা গেছে। শুধু ইসরায়েলে নয়, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলেও হামলা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন ঘাঁটি থাকা বিভিন্ন দেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরব ইরানি দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশেসহ কয়েকজন কূটনীতিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া শারজাহতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।