যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের পাশাপাশি দেশজুড়ে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা দেশটির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
নিউ মেক্সিকোর গভর্নর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেব হালান্ড। রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক মেয়র গ্রেগ হালের বিরুদ্ধে জয়ী হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন মিনেসোটার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পেগি ফ্লানাগান। রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক এনএফএল সাইডলাইন প্রতিবেদক মিশেল টাফয়াকে হারিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। হোয়াইট আর্থ ব্যান্ড অব ওজিবওয়ে জনগোষ্ঠীর সদস্য ফ্লানাগান।
জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনেও ঘটেছে ঐতিহাসিক পরিবর্তন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হিসেবে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
এদিকে মিশিগান থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন আবদুল এল-সায়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
টেক্সাসেও গভর্নর নির্বাচনে ঘটেছে ঐতিহাসিক ঘটনা। বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে প্রত্যাখ্যান করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসাকে বেছে নিয়েছেন ভোটাররা। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির প্রথম লাতিন নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন তিনি।
ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল জেভিয়ার বেসেরাও রিপাবলিকান প্রার্থী স্টিভ হিলটনকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন। ১৮৭৫ সালে রোমুয়ালদো পাচেকোর পর তিনিই ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম লাতিনো গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। জাতিগত ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনের ফলাফলে, যা দেশটির রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।