মার্কিন বিচার বিভাগের সম্প্রতি প্রকাশিত নথি থেকে জানা গেছে, ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে অনুদান দিয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন কার্যক্রমের অর্থায়নে সহায়তা করেছিলেন। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
নাবালিকা পাচারের একটি যৌন শোষণ চক্র চালানোর অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় থাকাকালে ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান এপস্টেইন। তাঁকে নিয়ে ক্রমাগত নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে।
২০০৫ সালে তাঁর দাখিলকৃত ট্যাক্স বা কর-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এপস্টেইন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং ফিলিস্তিনি ভূমি দখলকারী বসতি স্থাপনকারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন। নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ৩ মার্চ এপস্টেইন ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস’ সংস্থায় ২৫ হাজার ডলার অনুদান দেন।
এ ছাড়া তিনি ‘জিউইশ ন্যাশনাল ফান্ডে’ ১৫ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছিলেন, যা পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের অর্থায়ন করে। পাশাপাশি তিনি ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব জিউইশ উইমেনকে’ ৫ হাজার ডলার প্রদান করেন।
২০১২ সালের ২০ মে এক ব্যক্তিকে পাঠানো এপস্টেইনের এক ই-মেইল থেকে জানা যায়, তিনি দাবি করেছিলেন ‘ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের কোনো অস্তিত্ব ছিল না।‘ সেই বার্তায় এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘ফিলিস্তিন কখনোই একচেটিয়াভাবে কোনো আরব দেশ ছিল না, যদিও সপ্তম শতাব্দীতে মুসলিম অভিযানের পর ধীরে ধীরে আরবি ভাষা অধিকাংশ জনসংখ্যার ভাষায় পরিণত হয়। ফিলিস্তিনে কোনো স্বাধীন আরব বা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল না।’
নতুন প্রকাশিত নথিগুলোতে ২০১২ সালের ১২ আগস্টের এক এফবিআই নথিতে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এপস্টেইনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। ওই ব্যক্তি জানান, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় সাংবাদিকদের খালি বাক্স বহনকারী একটি গাড়ি অনুসরণ করতে বলা হয়েছিল, আর প্রথম গাড়িটি চলে যাওয়ার পর এপস্টেইনের দেহ অন্য একটি যানে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গত ৩১ জানুয়ারি মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে ৩০ লাখের বেশি নতুন ফাইল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেন।
মার্কিন ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সী নাবালিকাসহ অপ্রাপ্তবয়স্কদের একটি বড় যৌন শোষণ চক্র পরিচালনার অভিযোগ ছিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তাঁকে মৃত পাওয়া যায়।
এই মামলার নথিতে অনেক বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক, গায়ক মাইকেল জ্যাকসন এবং নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর বিল রিচার্ডসন।