ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে এবং তেহরান সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে যেখানে যুদ্ধ শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই আবার পুরোদমে লড়াই শুরু করবে মার্কিন বাহিনী। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ‘আমরা আশা করি, ইরান স্থায়ী শান্তির পথ বেছে নেবে। তবে মনে রাখতে হবে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল একটি ‘‘বিরতি’’। আমাদের যৌথ বাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যদি নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে গত ৩৮ দিনে আমরা যে গতি ও নির্ভুলতা দেখিয়েছি, সেই একই শক্তিতে আবারও লড়াই শুরু করব।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এক ভয়াবহ হামলা থেকে পিছিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন। এর পরপরই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়।
এদিকে, সংঘাতের অবসান নিয়ে দুপক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, সামরিকভাবে ইরান পরাজিত হয়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষাশিল্প, নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে চুক্তি করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, শত্রুপক্ষ তাদের অন্যায় ও অপরাধমূলক যুদ্ধে ইরানি জাতির কাছে এক ঐতিহাসিক পরাজয়ের স্বাদ নিয়েছে।
হেগসেথ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইরান যাতে শর্ত মেনে চলে এবং তাদের ইউরেনিয়াম মজুতের ওপর নজর রাখা যায়, সে জন্য মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যেই অবস্থান করবে। তবে হরমুজে যাবে না। তিনি বলেন, ‘ইউরেনিয়ামের বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। তাদের কী আছে, তা আমরা জানি। তারা স্বেচ্ছায় এটি দিয়ে দেবে, আর যদি না দেয়, তবে আমরা প্রয়োজনে তা কেড়ে নেব।’