হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা দিল পেন্টাগন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর নিদাল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জন নিরস্ত্র মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যার দায়ে দণ্ডিত হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে এই দণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাস্তবায়িত হলে এটি হবে প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা এবং দেশটির আধুনিক ইতিহাসে প্রথম সরাসরি সম্প্রচারিত মৃত্যুদণ্ড।

রক্ষণশীল টেলিভিশন চ্যানেল রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, হাসানকে সেনাসদস্যদের ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, এটাই হওয়া উচিত। হাসানের কোনো শেষ ইচ্ছা আছে কি না কিংবা তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নে হেগসেথ জানান, এসব বিষয়ে জানার আগ্রহ তাঁর নেই।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সুপারিশে ট্রাম্প অনুমোদন দিয়েছেন। তবে সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের অবস্থান জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।

এদিকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিকেরা। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এএফপিকে জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা কার্যত প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের শামিল এবং তা নির্যাতনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হতে পারে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি সিএনএনকে বলেছেন, এ ধারণা জঘন্য এবং জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী জন মিলসের মতে, এ ধরনের সম্প্রচারের উদ্যোগ নজিরবিহীন এবং এর আইনি বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। হাসানের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তিনি ফেডারেল আদালতে দণ্ড ও সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। মিলস মনে করেন, নির্ধারিত তারিখে দণ্ড কার্যকর হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

২০০৯ সালের সেই হামলায় আহত সাবেক সেনা সার্জেন্ট আলোনজো লান্সফোর্ড অবশ্য ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে। হামলায় তাঁর শরীরে সাতটি গুলি বিদ্ধ হয়েছিল। তবে তরুণদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনা করে তিনি সবার জন্য সম্প্রচার উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য দৃশ্যটি দেখার সুযোগ থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

মার্কিন সেনাবাহিনীর বিধি অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের সামরিক মৃত্যুদণ্ড প্রত্যক্ষ করার অনুমতি নেই। সরাসরি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে এ বিধি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা জানতে পেন্টাগন ও সেনাবাহিনীর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিবিসি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ১১টি ও আফগানিস্তানে ছয়টি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ওই বছর বিশ্বজুড়ে ১৭টি দেশে ২ হাজার ৭০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালে। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে, ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে সেনাবাহিনী থেকে পালানোর দায়ে এডি স্লোভিককে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।