ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় মানুষের কান্না দেখে ‘হতবাক’ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এমনটি জানিয়েছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ‘ভেবেছিলেন মানুষ তাঁকে ঘৃণা করে।’
অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদকে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি চাইলে খামেনির জানাজায় উপস্থিত ‘সবাইকে নির্মূল’ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কারণ, এমনটি করলে ‘আলোচনার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকত না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, খামেনির জানাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘জানাজা কার্যক্রম চলাকালে কোনো পক্ষই অপর পক্ষের ওপর হামলা চালাবে না।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে ঢল নামে হাজারো মানুষের। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হন লাখো শোকাতুর ইরানি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারান। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানিও রয়েছে। গতকাল শুক্রবার তেহরানের অনুষ্ঠানস্থলে খামেনির ঐতিহ্যবাহী কালো পাগড়িসহ তাঁর মরদেহটি জাতীয় পতাকায় মুড়ে নিয়ে আসা হয়। পাশে রাখা হয় হামলায় নিহত তাঁর স্বজনদের কফিন, যার মধ্যে পতাকায় মোড়ানো শিশু জাহরার ছোট কফিন এবং ফ্রেমে বাঁধানো ছবিও ছিল।
শুক্রবার বিকেল থেকে শত শত সাধারণ মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের বাইরে ভিড় করতে থাকেন। শনিবার সকালে মূল ফটক খুলে দেওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে বিশাল এই চত্বর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সমবেত জনতার হাতে ছিল শিয়া সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী প্রতিশোধের প্রতীক ‘লাল ব্যানার’। এ সময় প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে সমবেত জনতা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘প্রতিশোধ চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। ইরান ও পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়াত এই নেতার কফিন নিয়ে ছয় দিনব্যাপী এই শোকযাত্রা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কর্মসূচি পালিত হবে।