মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এবং দেশটির জব্দ অর্থ ছাড় করতে রাজি আছেন। বিনিময়ে তেহরানকে পরমাণু ইস্যুতে ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি’ দেখাতে হবে। গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। তবে, এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন—এই প্রতিবেদন ‘অসত্য।’
বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা’ চালাচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরমাণু ইস্যুগুলোর সমাধান না হলে কোনো চুক্তি হবে না। শনিবার ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প সেটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।
এর আগে, গত রোববার ট্রাম্প আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেন, চলতি সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তবে সোমবার ট্রাম্প এমন ধারণাও অস্বীকার করেন যে তিনি ইরানকে কোনো ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি তাদের দেওয়ার জন্য কিছুই প্রস্তাব করিনি!’ রোববার ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি যে ধরনের চুক্তি করতে চাই, সেটি নয়। এটা এমন একটি চুক্তি, যেটিতে হয়তো আমরা এক বছর আগে রাজি হয়ে যেতাম। তারা নিজেদের অবস্থান নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করেছে।’
ওই মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান জানিয়েছে যে—তারা পরমাণু ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিতে প্রস্তুত। তবে কোন পক্ষ কখন কী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে, সেই সময়সূচি নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি।
গত রোববার সিএনএনের জেক ট্যাপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন ইরান আন্তরিকভাবে আলোচনা করছে না। ওয়াল্টজের যুক্তি ছিল, তেহরান ‘আগেই সবকিছু চাইছে’, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়াল্টজ সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘মূল কথা হলো, তারা সবকিছু আগে চাইছিল এবং তারপর আলোচনা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল।’
পরে এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ওয়াল্টজ বলেন, ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্পের খুব বেশি আস্থা না থাকার বিষয়টি ‘সাধারণ বুদ্ধির ব্যাপার।’ তিনি তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ইরান জানতই যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে না। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল ‘একটি বেশ কৌশলী ও সন্দেহজনক চেষ্টা।’
ওই মার্কিন কর্মকর্তাও ওয়াল্টজের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, ইরানের প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সন্দিহান। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক হয়েছিল, ইরান সেটি লঙ্ঘন করেছে। ওই সমঝোতার পর ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তবে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি প্রতিবেদন অস্বীকার করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কিছু ছাড় দিলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ছাড় করে দিতে প্রস্তুত।
অ্যাক্সিওসের ওয়েবসাইটে ইংরেজিতে এবং ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-তে হিব্রু ভাষায় ওই খবর প্রকাশিত হয়। এরপর ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে সেটিকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিলে ট্রাম্প দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ থাকা অর্থ ছাড় করে দিতে রাজি আছেন।’ প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়।
৮০ বছর বয়সী রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ওই খবরকে ‘প্রতারণামূলক মিথ্যা খবর’ বলে অভিহিত করেন এবং অ্যাক্সিওসকে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি তাদের দেওয়ার জন্য কিছুই প্রস্তাব করিনি!’