যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিনার চলাকালে বাইরে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুলির শব্দ পাওয়ার পরপরই দ্রুতই ট্রাম্পকে হোটেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের বলরুমের ‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার’ অনুষ্ঠান চলাকালে বাইরে গুলির ঘটনা ঘটে। বাইরে গুলির শব্দ শোনা গেলে ট্রাম্পকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বার্ষিক এই মিডিয়া ইভেন্ট শুরু হওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ফার্স্ট লেডি সেখানে আসন গ্রহণ করেন।
ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা এক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদ আছেন এবং শিগগির তিনি হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদ সম্মেলন করবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ফার্স্ট লেডি, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ক্যাবিনেটের সকল সদস্য সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।’
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘আমরা আধা ঘণ্টার মধ্যে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব। আমি অনুষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা সব প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছি এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আমরা এটি পুনরায় আয়োজন করব।’
ট্রাম্প মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তারা অত্যন্ত দ্রুত এবং সাহসিকতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে এবং আমি সুপারিশ করেছি, অনুষ্ঠানটি চলতে দেওয়া হোক। তবে আমি পুরোপুরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছি। তারা শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।’
ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, গুলির শব্দ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প এবং উপস্থিত অতিথিরা তাদের টেবিলের পেছনে আশ্রয় নেন এ সময় চারদিক থেকে ‘নিচে নেমে যান!’ এবং টেবিলের ‘নিচেই থাকুন!’ বলে চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। এরপর সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা ট্রাম্পকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন এবং ভারী অস্ত্রে সজ্জিত এজেন্টরা টেবিলের চারপাশ ঘিরে ফেলেন।
ওয়াশিংটনে আল জাজিরার প্রযোজক ক্রিস শেরিডান জানিয়েছেন, তিনি বলরুমের বাইরে পাঁচটি গুলির শব্দ শুনতে পান। শেরিডান বলেন, ‘আমরা গানপাউডারের গন্ধ পাচ্ছিলাম। আমরা সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে শুয়ে পড়ি। শব্দটা ঠিক আমার পেছনেই হয়েছিল। কত ফুট দূরে ছিল তা বলতে পারছি না, তবে এটি অবশ্যই বলরুমের প্রবেশদ্বারের দরজার ঠিক বাইরে ছিল।’