যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ইনজেকশন দেওয়ার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লেও তাঁর হৃদস্পন্দন চলছিল এবং তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিবিসি জানায়, গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রত্যাশিত মৃত্যু না হওয়ায় দুইবারই সাক্ষীদের কক্ষের পর্দা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গণমাধ্যমকেও কারাগার থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয় বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্যেই পাইকের আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ‘পাইক অচেতন হয়ে গেছেন, কিন্তু তাঁর হৃদস্পন্দন এখনো রয়েছে এবং তাঁর নাক ডাকার শব্দ শোনা যাচ্ছে।’ পরে জেলা জজ ক্লিফটন এল ককার জানান, চিকিৎসাকর্মীরা পাইকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছেন। তাঁকে কারাগার থেকে একটি হাসপাতালেও নেওয়া হয়।
পাইকের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা এমোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক ড. জোয়েল জিভট বিবিসিকে বলেন, পাইকের শরীরে পেন্টোবারবিটালের পর্যাপ্ত মাত্রা সম্ভবত পৌঁছায়নি। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম থেমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে থাকলে তাঁর মস্তিষ্কে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পাইক ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পান। ১৯৯৫ সালে একটি সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে স্লেমারের সঙ্গে পাইকের পরিচয় হয়। পরে পাইক ও তাঁর তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। হত্যার ঘটনায় স্লেমারের শরীরে একটি উল্টো পেন্টাগ্রাম খোদাই করা হয়েছিল। পাইক অবশ্য সেটি নিজে করেছিলেন বলে অস্বীকার করেছেন।
হত্যার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। তাঁর সহ-আসামি শিপের বয়স সে সময় ১৭ বছর থাকায় সেই সময়ের আইন অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়নি। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের আইনজীবীরা একাধিকবার আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁরা যুক্তি দেন, শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্যসহ তাঁর জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ পরিষ্কার করে দেয়। টেনেসির গভর্নর বিল লিও তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনও নাকচ করেন।
এদিকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর লি। তিনি বলেছেন, ঠিক কী ঘটেছিল তা নির্ধারণে একটি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হবে। চলতি বছরের টেনেসির নির্ধারিত আরেকটি মৃত্যুদণ্ডও স্থগিত করা হয়েছে।
টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, তারা অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে। তবে পাইকের আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় শিরায় ওষুধ প্রয়োগে সমস্যা, শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগসহ একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর দেশটিতে মাত্র ১৮ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ১ হাজার ৬৬৩ জন পুরুষের। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হওয়া মোট মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ১ শতাংশ নারী।