হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

১৩ জন হত্যাকারী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে অনুমোদন ট্রাম্পের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

২০০৯ সালের নভেম্বরে বন্দুক হামলায় ১৩ জনকে হত্যা করেন নিদাল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে ১৩ জনকে হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত সাবেক মার্কিন সেনা চিকিৎসক মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফায়ারিং স্কোয়াড অনুমোদন করেছেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন সেনাবাহিনীর সচিব।

২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে বন্দুক নিয়ে হামলা চালান হাসান। এ ঘটনায় ১২ জন সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নিহত হন। আহত হন আরও ৩২ জন। হামলার সময় হাসান ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করেছিলেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পরে তিনি দাবি করেন, মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রতিশোধ নিতেই তিনি হামলা চালিয়েছিলেন।

২০১৩ সালের আগস্টে সামরিক আদালত হাসানকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ৪৫টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। হামলার কয়েক সপ্তাহ পরই তাঁর আফগানিস্তানে মোতায়েন হওয়ার কথা ছিল। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের গুলিতে হাসান আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদিত পদ্ধতির তালিকায় ফায়ারিং স্কোয়াডের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক চেয়ার ও গ্যাস প্রয়োগের মতো পদ্ধতিও যুক্ত করেছে। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহে ক্রমবর্ধমান সমস্যার কারণেই বিকল্প পদ্ধতির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের একটি মৃত্যুদণ্ড ফাঁসিতে কার্যকর করা হয়েছিল। আর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৫ সালের নভেম্বরে।

সামরিক মৃত্যুদণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল। দেশটির ইউনিফর্ম কোড অব মিলিটারি জাস্টিস অনুযায়ী, সামরিক আদালতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যায় না।

মৃত্যুদণ্ডবিরোধী সংগঠন ডেথ পেনাল্টি অ্যাকশন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, এ সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষমতার ব্যবহারকে আরও জোরালো করে তুলছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালে সাউথ ক্যারোলিনায় ১৫ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।