হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: হোয়াইট হাউস

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের প্রস্তাবিত ৭ দিনের রোডম্যাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।

তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলেই দ্রুত চুক্তি করে হরমুজ খুলে দিতে চাচ্ছে। আমরা চুক্তি করতে, তবে এই চুক্তিটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

কী ছিল ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনায়

নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন রোডম্যাপ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং শান্তি আলোচনা আবার শুরু হবে।’

যদিও আরাঘচি প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেননি, তবে জানান এটি মূলত গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।

চলতি বছরের জুনের সেই সমঝোতায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত রাখার কথা ছিল, যাতে ওই সময়ের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু ৬০ দিনের পর কী হবে, সে বিষয়ে সমঝোতায় স্পষ্ট কিছু উল্লেখ ছিল না।

নতুন প্রস্তাবে ইরান সেই দীর্ঘ সময়সীমাকে কমিয়ে মাত্র সাত দিনে নিয়ে এসেছে এবং আলোচনার ক্রমও বদলে দিয়েছে।

প্রথম ধাপে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ হবে। এর মধ্যে শুধু ইরান নয়, লেবাননেও চলমান সংঘর্ষ বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করবে।

এরপর সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সবশেষে হরমুজ চালু হওয়ার পর শুরু হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত শান্তি আলোচনা।

অর্থাৎ, ইরানের প্রস্তাবে পারমাণবিক ইস্যু প্রথম নয়; বরং হরমুজ পুনরায় চালু করাকেই আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা না হলেও কাতারের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

এর আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে। তবে তিনি এও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের খুবই শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাই আমরা কোনো তাড়াহুড়ো করছি না।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে যদি কোনো চুক্তি হয়, তবে সেটি দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন ও জটিল আলোচনার মধ্য দিয়েই হবে।’

রুবিওর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন দ্রুত কোনো সমঝোতার পরিবর্তে ধাপে ধাপে আলোচনার পথেই এগোতে চায়।

এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বলেছেন যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে বিমান হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের অবস্থান আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিবর্তিতও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রস্তাব সামনে এলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। উভয় পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও, চুক্তির শর্ত নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবেই ভিন্ন রয়ে গেছে।