ইরান লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোর মতো মার্কিন শহর ধ্বংস করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাতে নেব্রাস্কার এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে আমেরিকানদের যে আর্থিক মূল্য দিতে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে নিরাপদ রাখার জন্য তা খুবই ‘ছোট মূল্য।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বকে নিরাপদ রাখা, আমাদের দেশকে নিরাপদ রাখার জন্য এটি (ইরান যুদ্ধ) একটি ছোট মূল্য। তারা একটি শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস ধ্বংস করতে দিন! সান ডিয়েগো ধ্বংস করতে দিন! এটিই একটি খুব ছোট মূল্য। আর এটি খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে।’
এরপর ট্রাম্প প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জানায়, যুদ্ধের উদ্দেশ্য হলো ‘ইরান যেন লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগো ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে’, তা নিশ্চিত করা। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তবে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহার করা যেতে পারে এমন তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক উপাদান শনাক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার বহু বছর ধরে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ শহরাঞ্চলগুলোকে বিশেষ সহায়তা দিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে সন্ত্রাসী হামলা ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য জরুরি পরিকল্পনা বজায় রাখে। এর পাশাপাশি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএস-এর সিকিউরিং দ্য সিটিজ (এসটিসি) কর্মসূচি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি মহানগর অঞ্চলকে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় বিশেষ সক্ষমতা দিয়ে থাকে।
ডিএইচএস-এর এসটিসি কর্মসূচিতে ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ শহরাঞ্চলকে সুরক্ষার জন্য মোট ১৩টি অঞ্চল নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টিবিলিটি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহার করা যেতে পারে এমন তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক উপাদান শনাক্ত করতে’ সহায়তা করা। ২০০৭ সালে নিউইয়র্ক সিটি, জার্সি সিটি ও নিউয়ার্ক অঞ্চলকে নিয়ে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে এসটিসি শুরু হয়। পরে এটি আরও বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রসারিত হয়।
ডিএইচএস-এর কাউন্টারিং ওয়েপনস অব ম্যাস ডেস্ট্রাকশন অফিস (সিডব্লিউএমডি) এই কর্মসূচি পরিচালনা করে। ডিএইচএস-এর এক বিবৃতি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয়, পারমাণবিক এবং স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকি শনাক্ত করার প্রচেষ্টার সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা করে এই দপ্তর। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ডিএইচএস এসটিসি কর্মসূচির আওতাভুক্ত অঞ্চলগুলোকে মোট ৩০ কোটি ডলার দিয়েছে। এই অর্থ দিয়ে রেডিয়েশন শনাক্তকারী যন্ত্র কেনা, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয় বা পারমাণবিক উপাদান শনাক্ত করার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
ডিএইচএস-এর এসটিসি কর্মসূচির আওতায় রয়েছে—নিউইয়র্ক সিটি/জার্সি সিটি-নিউয়ার্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস/লং বিচ, ওয়াশিংটন ডিসি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চল, হিউস্টন, শিকাগো, আটলান্টা, বোস্টন, ডেনভার, মিয়ামি, নিউ অরলিন্স, ফিনিক্স/মারিকোপা কাউন্টি, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া ও সিয়াটল।