মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি ইরানের তেল ‘দখল’ করতে পারেন এবং দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন।
গতকাল রোববার ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার পছন্দ হলো তেল দখল করা।’ এ সময় তিনি চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে যেভাবে নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে, ইরানেও তেমনটি করা সম্ভব।
খার্গ দ্বীপে স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়ে হোয়াইট হাউস গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অভিযান হবে অত্যন্ত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, কারণ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই এই দ্বীপে আঘাত হানতে সক্ষম। অবশ্য নিজ দেশের সমালোচকদের ‘বোকা’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইরানের তেল নিতে চাই, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বোকা লোক প্রশ্ন তুলছে আমি কেন এটা করছি।’
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। এশীয় বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ দশমিক ৮০ ডলার।
এদিকে পেন্টাগন ইরানে দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। গত শুক্রবারই ওই অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা পৌঁছেছে। এ ছাড়া ৮২ তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনাকে যুদ্ধের সমর্থনে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের আঁচ এখন পাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। আজ সোমবার সকালে কুয়েত জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় তাদের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি শোধন কেন্দ্রে (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় সেখানে কর্মরত এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। কুয়েত এটিকে ‘ইরানি আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। উল্লেখ্য, উপসাগরীয় দেশগুলোর পানীয় জলের প্রধান উৎস এই প্ল্যান্টগুলো, সবগুলো প্ল্যান্টই বর্তমানে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংঘাতের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-ঘেঁষা হুতি বিদ্রোহীরা। হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁরা ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।