ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির প্রথম পর্যায়ের সব অর্থ কারাকাসকে বুঝিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। গতকাল মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেলের প্রাথমিক বিক্রয়লব্ধ ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে শেষ কিস্তির ২০০ মিলিয়ন ডলার ভেনেজুয়েলা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের পর দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ভেনেজুয়েলা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রথম দফার তেল বিক্রির পুরো ৫০০ মিলিয়ন ডলার গ্রহণ করেছে। তবে এই অর্থ কারাকাস নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করতে পারবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও জরুরি সেবা খাতে ব্যয় করতে হবে।
গত সপ্তাহে ক্যাপিটল হিলে এক শুনানিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল একটি সাময়িক পদক্ষেপ। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলাকে তাদের নিজস্ব তেল ব্যবহার করে রাজস্ব আয়ের সুযোগ দিয়েছি, যাতে তারা শিক্ষক, অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের বেতন দিতে পারে। আমরা চাইনি দেশটির শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ুক।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এত দিন এই অর্থ কাতারের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছিল। মার্কিন পাওনাদারদের হাত থেকে অর্থ রক্ষা করতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে কাতারকে একটি ‘নিরপেক্ষ ক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরবর্তী সময়ে তেল বিক্রির সব অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত একটি বিশেষ তহবিলে জমা রাখা হবে। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন সাপেক্ষে ভেনেজুয়েলা সরকার তাদের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে পারবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এর মাধ্যমে নিকোলা মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তেলের বাজার ও রাজস্ব ব্যয়ের চাবিকাঠি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে।