যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে আগামী জানুয়ারি থেকে কংগ্রেসে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির সুযোগ বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, শুল্কনীতি ও অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে।
তবে নির্বাচনে জিতলেও ট্রাম্পের সব সিদ্ধান্ত বন্ধ করার ক্ষমতা পাচ্ছে না ডেমোক্র্যাটরা। কারণ, কোনো আইন পাসের পর প্রেসিডেন্ট তাতে ভেটো দিলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের হাতে এত আসন নেই।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়—গত বছর প্রায় ৯০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর যুক্তিতে নেওয়া এ পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করে। গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আরোপের ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করলেও বিকল্প আইনি ব্যবস্থায় নতুন করে শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। পরে শুল্কের হার ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। তবে এসব শুল্কের মেয়াদ ১৫০ দিন, যা বাড়াতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপরই চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন কংগ্রেস রপ্তানিকারকদের সাময়িক স্বস্তি দিতে কিছু পণ্যে শুল্ক ছাড়ের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বাণিজ্যনীতিতে বড় পরিবর্তনের জন্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এদিকে নতুন কংগ্রেসে বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব পাবে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা, কারাগারে মারা যাওয়া যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে। এমনকি ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারে তারা।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহিষ্কারে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থা এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সহযোগিতা খতিয়ে দেখতে চান ডেমোক্র্যাটরা।
ট্রাম্পের গণবহিষ্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিমানবন্দরে অভিবাসীদের আটক এবং অভিবাসনসংক্রান্ত শুনানিতে হাজির করার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। নির্বাচনের আগে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা যায়, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, অভিবাসনবিরোধী অভিযান মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের ক্ষমতা পুরোপুরি সীমিত না করলেও তাঁর নীতির ওপর নজরদারি, তদন্ত এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান অনেক শক্তিশালী করেছে।