মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প পরিবারের প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’-এর বিরুদ্ধে তাদেরই এক বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারী চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে বিবিসি জানিয়েছে, ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা জাস্টিন সান এই মামলার বাদী। সানের অভিযোগ, ট্রাম্প পরিবারের প্রতিষ্ঠানটি বেআইনি উপায়ে তাঁর মালিকানাধীন ডব্লিউএলএফআই টোকেন দখলের চেষ্টা করছে। কোম্পানিটি তাঁর সব টোকেন ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছে এবং প্রকল্পের নীতিগত সিদ্ধান্তে ভোট দেওয়ার অধিকারও কেড়ে নিয়েছে। এমনকি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাঁর টোকেন স্থায়ীভাবে ‘বার্ন’ বা ধ্বংস করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সান নিজেই নানা অনিয়মে জড়িত এবং নিজের দোষ ঢাকতেই ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প-সহ প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তারাও সানের অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সান দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের ক্রিপ্টো নীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ট্রন (TRON) প্রকল্পের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড লিবার্টিতে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। এক সময় তাঁর ডব্লিউএলএফআই টোকেনের মূল্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল বলে জানা যায়। তবে গত সেপ্টেম্বর থেকে টোকেনটির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শুরুতে টোকেন হোল্ডারদের ভবিষ্যতে অবাধে লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা ছিল বিভ্রান্তিকর। অন্যরা টোকেন বেচাকেনা করতে পারলেও সানকে তা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে এই মামলার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টোকেনের মূল্যকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।