আজকের ফ্লোরিডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঝলমলে, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং পর্যটকদের জন্য অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্য। তবে প্রায় দুই শতাব্দী আগে এই ভূখণ্ডের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন ফ্লোরিডা ছিল জলাভূমি, ম্যালেরিয়া ও গহিন জঙ্গলে ঘেরা এক অশান্ত সীমান্ত এলাকা, যা দখল করার জন্য ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলো ও উদীয়মান আমেরিকার মধ্যে চলেছে দীর্ঘ রক্তাক্ত লড়াই।
১৫১৩ সালে স্প্যানিশ অভিযাত্রী হুয়ান পোন্সে দে লিওনের পা রাখার পর থেকে ১৮২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন পতাকার অধীনে আসা পর্যন্ত—ফ্লোরিডার ইতিহাস আসলে এক দীর্ঘ ভূ-রাজনৈতিক দাবার ছক। এই প্রতিবেদনে ফ্লোরিডার ঔপনিবেশিক লড়াই, ‘এক মিনিটের এক রহস্যময় বিপ্লব’ এবং শেষ মুহূর্তের এক জটিল কূটনৈতিক দর-কষাকষির ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
১৫১৩ সালের ইস্টার সানডের (স্প্যানিশ ভাষায় যা ‘পাসকুয়া ফ্লোরিডা’ নামে পরিচিত) দিন স্প্যানিশ অভিযাত্রী হুয়ান পোন্সে দে লিওন প্রথম এই উপদ্বীপে অবতরণ করেন। চারপাশের সবুজের সমারোহ দেখে তিনি এই অঞ্চলের নাম দেন ‘লা ফ্লোরিডা’ এবং স্পেনের রাজমুকুটের পক্ষে এর মালিকানা দাবি করেন।
পরবর্তী কয়েক দশকে স্প্যানিশ অভিযাত্রী প্যানফিলো দে নারভায়েজ ও হার্নান্দো দে সোতোর মতো দুঃসাহসী যোদ্ধারা এই অঞ্চলে একের পর এক অভিযান চালান। তবে ফ্লোরিডার আবহাওয়া ও স্থানীয় আদিবাসীদের প্রতিরোধ ছিল অত্যন্ত তীব্র:
নারভায়েজের ভাগ্য: ১৫২৮ সালে স্থানীয় আদিবাসীদের তাড়া খেয়ে উত্তর-পশ্চিম ফ্লোরিডা থেকে পালানোর সময় মেক্সিকো উপসাগরে জাহাজডুবিতে মারা যান নারভায়েজ।
দে সোতোর অভিযান: ১৫৩৯ সালে ফ্লোরিডার পশ্চিম উপকূলে অবতরণ করে উত্তর ও পশ্চিমে প্রায় ৪ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে শেষ পর্যন্ত জিম্মি ও রোগাক্রান্ত হয়ে তিনিও মারা যান।
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৫৬৫ সালে পেদ্রো মেনেন্দেজ দে অ্যাভিলেস ফ্লোরিডার পূর্ব উপকূলে ‘সেন্ট অগাস্টিন’ শহর প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ পর্যন্ত আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের সবচেয়ে প্রাচীন ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বসতি থাকা ইউরোপীয় শহর।
১৫৬৪ সালে ফরাসি প্রোটেস্ট্যান্টদের (হিউগেনটস) একটি দল সেন্ট জনস নদীর মোহনায় ‘ফোর্ট ক্যারোলিন’ নামে একটি দুর্গ স্থাপন করলে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য বড় ধরনের হুমকিতে পড়ে। ক্যাথলিক স্পেন এই ফরাসি প্রোটেস্ট্যান্টদের অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই মেনে নেয়নি। ১৫৬৫ সালে মেনেন্দেজের নেতৃত্বে স্প্যানিশ বাহিনী অত্যন্ত নির্মমভাবে ফরাসিদের ওপর আক্রমণ চালায়। দুটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ফরাসিদের প্রায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্থানটি আজও ‘মাতানজাস’ (স্প্যানিশ শব্দ যার অর্থ ‘গণহত্যা’) নামে পরিচিত। ফরাসিদের বিতাড়িত করার পর পরবর্তী দুই শতাব্দী ফ্লোরিডায় স্পেনের শাসন ছিল নিরঙ্কুশ।
১৭৬৩ সালে ইউরোপের সপ্ত বর্ষব্যাপী যুদ্ধের (আমেরিকান অংশে যা ‘ফ্রেঞ্চ অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ওয়ার’ নামে পরিচিত) অবসান ঘটে। এই যুদ্ধে বিজয়ী গ্রেট ব্রিটেন এবং পরাজিত ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘প্যারিস চুক্তি (১৭৬৩)’ স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তিতে এক অদ্ভুত ভৌগোলিক বিনিময় ঘটে। যুদ্ধের শেষভাগে ব্রিটিশ বাহিনী স্পেনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুরক্ষিত কিউবার হাভানা শহর দখল করে নিয়েছিল। হাভানা ফেরত পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে স্পেন ফ্লোরিডাকে ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়।
শাসনকাজের সুবিধার্থে ব্রিটিশরা এই অঞ্চলকে আপালাচিকোলা নদীর সীমানা ধরে দুই ভাগে ভাগ করে:
১. পূর্ব ফ্লোরিডা: যার রাজধানী ছিল সেন্ট অগাস্টিন।
২. পশ্চিম ফ্লোরিডা: যার সীমানা বর্তমান মিসিসিপি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং রাজধানী ছিল পেনসাকোলা।
ব্রিটিশদের এই ২০ বছরের শাসনামলে ফ্লোরিডায় ব্যাপক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে। নীল ও তুলার চাষের জন্য ব্রিটিশরা এখানে বড় বড় বাগান গড়ে তোলে।
১৭৭৬ সালে আমেরিকার ১৩টি মূল উপনিবেশ যখন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে (মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধ), তখন এই দুই ফ্লোরিডা ব্রিটেনের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত ও অনুগত থাকে। বিদ্রোহীদের হাত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার ব্রিটিশ রাজভক্ত ফ্লোরিডায় এসে আশ্রয় নেন।
তবে ১৭৮৩ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য আবারও ওলটপালট হয়ে যায়। জিব্রাল্টার প্রণালিকে ব্রিটিশদের হাত থেকে ফিরে পাওয়ার আশা ত্যাগ করে স্পেন এক চুক্তির মাধ্যমে ফ্লোরিডাকে পুনরায় নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
দ্বিতীয় দফায় ফ্লোরিডায় স্পেনের শাসন ফিরে এলেও তা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। স্পেন তখন ইউরোপে নেপোলিয়নের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত।
১৮০৩ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশাল ‘লুইজিয়ানা অঞ্চল’ কিনে নেওয়ার পর ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের মধ্যে নতুন বিরোধের সূত্রপাত হয়। আমেরিকার দাবি ছিল, লুইজিয়ানা ক্রয়ের ফলেই পশ্চিম ফ্লোরিডার একটি বড় অংশ (মিসিসিপি ও পার্ডিডো নদীর মধ্যবর্তী এলাকা) তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। স্পেন এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু মার্কিন বসতি স্থাপনকারীরা স্পেনের সীমান্ত তোয়াক্কা না করে দ্রুত পশ্চিম ফ্লোরিডায় প্রবেশ করতে শুরু করে।
স্প্যানিশ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অযোগ্যতায় অতিষ্ঠ হয়ে মার্কিন বসতি স্থাপনকারীরা বিদ্রোহের ছক কষে। ১৮১০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে ফিলিপন থমাসের নেতৃত্বে প্রায় ৭৫ জন সশস্ত্র আমেরিকান বসতি স্থাপনকারী ব্যাটন রুজের স্প্যানিশ দুর্গ ‘ফোর্ট সান কার্লোস’ ঝড়ের গতিতে আক্রমণ করেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম সংক্ষিপ্ত বিপ্লব। এক মিনিটেরও কম সময়ে স্প্যানিশ সেনারা আত্মসমর্পণ করে। বিদ্রোহীরা সেখানে স্প্যানিশ পতাকা নামিয়ে নীল কাপড়ের ওপর একটি সাদা তারকা আঁকা পতাকা ওড়ায় এবং এটিকে ‘রিপাবলিক অব ওয়েস্ট ফ্লোরিডা’ বা স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করে।
আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসন এই স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি না দিয়ে উল্টো ৩ মাস পর সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে এই অঞ্চলটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। পরবর্তীতে এই অংশটি লুইজিয়ানা, মিসিসিপি এবং আলাবামা অঙ্গরাজ্যের অংশ হিসেবে ভাগ করে দেওয়া হয়।
১৮১২ সালে আমেরিকা ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ফ্লোরিডায় স্পেনের নিয়ন্ত্রণ আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এই সুযোগে ফ্লোরিডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের রাজ্যগুলোর (বিশেষ করে জর্জিয়া) জন্য একটি বড় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সে সময় বহু আফ্রিকান-আমেরিকান দাস জর্জিয়ার বাগান থেকে পালিয়ে স্প্যানিশ ফ্লোরিডায় আশ্রয় নিচ্ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সেমিনোল আদিবাসীরা জর্জিয়ার মার্কিন বসতিগুলোতে আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে আবার ফ্লোরিডার সীমান্তে এসে আশ্রয় নিত। স্পেনীয় সরকারের এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কোনো শক্তি ছিল না।
১৮১৭ সালে মার্কিন জেনারেল (পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট) অ্যান্ড্রু জ্যাকসনকে সেমিনোল আদিবাসীদের দমন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। জ্যাকসনকে ওয়াশিংটন থেকে শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, তিনি নিজ সিদ্ধান্তে স্প্যানিশ ফ্লোরিডার ভেতরে ঢুকে পড়েন। এটি ইতিহাসে ‘প্রথম সেমিনোল যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।
১৮১৮ সালে জ্যাকসন একে একে স্প্যানিশ দুর্গ সেন্ট মার্কস ও রাজধানী পেনসাকোলা দখল করে নেন। শুধু তাই নয়, তিনি আদিবাসীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আলেকজান্ডার আরবুথনট এবং রবার্ট অ্যামব্রিস্টার নামের দুই ব্রিটিশ নাগরিককে সামরিক আদালতে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেন।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে স্পেন, গ্রেট ব্রিটেন ও আমেরিকার মধ্যে এক ত্রিদেশীয় যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কুইন্সি অ্যাডামস ছাড়া মার্কিন মন্ত্রিসভার প্রায় সবাই জ্যাকসনের এই অননুমোদিত কাজের কঠোর সমালোচনা করেন। তবে অ্যাডামস বুঝতে পেরেছিলেন, জ্যাকসনের এই আগ্রাসন স্পেনের দুর্বলতাকে বিশ্বমঞ্চে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
অ্যাডামস-অনিস চুক্তি: চূড়ান্ত কূটনৈতিক সমাধান (১৮১৯-১৮২১)
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কুইন্সি অ্যাডামস স্পেনের রাষ্ট্রদূত ডন লুইস দে অনিসকে এক কঠোর কূটনৈতিক বার্তা দেন: ‘হয় ফ্লোরিডায় শান্তি বজায় রাখার মতো পর্যাপ্ত সৈন্য রাখুন, না হলে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করুন।’
স্পেন তখন দক্ষিণ আমেরিকায় নিজেদের উপনিবেশগুলোতে একের পর এক স্বাধীনতা আন্দোলন (যেমন সাইমন বলিভারের নেতৃত্বাধীন বিপ্লব) সামলাতে ব্যস্ত ছিল। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধে জড়ানোর মতো অর্থনৈতিক বা সামরিক সামর্থ্য মাদ্রিদের ছিল না।
অবশেষে, ১৮১৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘অ্যাডামস-অনিস চুক্তি’ বা ‘ট্রান্সকন্টিনেন্টাল চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্তগুলো ছিল:
ফ্লোরিডা হস্তান্তর: স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ব ও পশ্চিম ফ্লোরিডার ওপর সমস্ত দাবি ত্যাগ করে তা আমেরিকার হাতে তুলে দেয়।
আর্থিক ক্ষতিপূরণ: মার্কিন সরকার স্পেনকে কোনো সরাসরি অর্থ দেয়নি। পরিবর্তে, মার্কিন নাগরিকদের স্পেনের কাছে পাওনা থাকা ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ডলারের ঋণ ও ক্ষতিপূরণের দায় মার্কিন সরকার নিজের কাঁধে তুলে নেয়।
টেক্সাস নিয়ে সমঝোতা: ফ্লোরিডা পাওয়ার বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টেক্সাস অঞ্চলের ওপর তাদের দাবি সাময়িকভাবে ত্যাগ করে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সীমানা: এই চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকার লুইজিয়ানা অঞ্চলের সীমানা সুনির্দিষ্ট করা হয়, যা প্রথমবারের মতো মার্কিন সীমান্তকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার পথ উন্মুক্ত করে।
১৮১৯ সালে চুক্তি সই হলেও স্পেন এটি অনুমোদন করতে দুই বছর সময় নেয়। স্পেন আশা করেছিল, অনুমোদন ঝুলিয়ে রাখলে আমেরিকা হয়তো দক্ষিণ আমেরিকার স্প্যানিশ উপনিবেশগুলোর স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। অবশেষে, ১৮২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত ও কার্যকর হয়। ১৮২১ সালের জুলাই মাসে জেনারেল অ্যান্ড্রু জ্যাকসন ফ্লোরিডার প্রথম মার্কিন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
যে ফ্লোরিডাকে স্প্যানিশরা সোনার খনি ভেবেছিল, তা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য একটি বোঝায় পরিণত হয়েছিল। শত বছরের যুদ্ধ, চোরাগোপ্তা হামলা, দাসদের আশ্রয়স্থল ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ১৮৪৫ সালের ৩ মার্চ ফ্লোরিডা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
আজকের ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে যতটা স্বাভাবিক মনে হয়, তার পেছনের ইতিহাসটি ছিল ঠিক ততটাই নাটকীয়, রক্তাক্ত এবং ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে ঠাসা।