ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা বা অস্ত্র সরবরাহ করলে চীনের ওপর ৫০ শতাংশ হারে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে ৮ এপ্রিল ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে সেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সব পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘কোনো দেশ ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে তাদের সব পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।’
আজ রোববার আবার তিনি একই ধরনের হুমকি দিলেন।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই হুমকির আইনি ভিত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক আইনের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। আগে এই আইন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সহজে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিত। ফলে বর্তমানে ট্রাম্পের হাতে থাকা শুল্ক আরোপের আইনি পথ তুলনামূলকভাবে জটিল ও সময়সাপেক্ষ।
তবে ট্রাম্প চাইলে ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ধারা ৩৩৮ ব্যবহার করতে পারেন, যা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। তবে এই ধারা মূলত বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতির বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রণীত—অস্ত্র সরবরাহের মতো কারণে এটি প্রয়োগ করা আইনি দিক থেকে দুর্বল হতে পারে।
এদিকে চীন-ইরান সম্পর্কও এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।