পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে পদযাত্রা শুরু করেছেন তাঁর হাজার হাজার সমর্থক। গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত শহর থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে এই কর্মসূচি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বিবিসি জানায়, ৭৪ বছর বয়সী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁর পরিবারের দাবি, কারা কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে গত আগস্টে স্বাস্থ্যগত সমস্যার অভিযোগের পর তাঁকে সাময়িকভাবে একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ বলে জানান।
ইমরান খান শতাধিক মামলার আসামি। রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে সরকারি উপহার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গত বছর দুর্নীতির একটি মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ইমরান খান বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
গতকাল রোববার রাতে যাত্রাবিরতির পর আজ সোমবার পদযাত্রাটি আবার শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহেই এটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও সরকারের মধ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
পিটিআইয়ের অভিযোগ, দলীয় নেতাদের ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে সরকার অস্বীকৃতি জানানোয় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক ও জাতীয় বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পরামর্শের পাশাপাশি দলটি ইমরানের দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার পিটিআই-শাসিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বলেছেন, পদযাত্রাটি আগামী বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) মধ্যে ইসলামাবাদের প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমের একটি শহরে পৌঁছাতে পারে। তিনি জনগণকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে পদযাত্রার আয়োজকেরা সরাসরি ইসলামাবাদ অভিমুখে যাওয়ার ঘোষণা না দিলেও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে কনটেইনার বসিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি পিটিআই-নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারকে আলোচনায় দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে আলোচনা ‘ভেস্তে দেওয়ার’ অভিযোগ করেছেন।
ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্টে তাঁকে প্রথম কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে ওই বছরের মে মাসে পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল। লাহোরে সেনাবাহিনীর একটি কমান্ডারের বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। ওই বিক্ষোভে অন্তত আটজন নিহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল।
কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্য ও মুক্তির দাবিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের সাবেক কয়েকজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে তাঁর যথাযথ চিকিৎসার আহ্বান জানিয়েছেন।