পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভূমি থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ফাতাহ-৪ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত একটি সংস্করণের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর দ্য ডনের।
আইএসপিআর জানিয়েছে, নতুন সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্নত অ্যাভিওনিক্স এবং অত্যাধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থায় সজ্জিত। এর মাধ্যমে এটি আগের তুলনায় বেশি দূরত্বে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ নির্ভুলতা ও ধ্বংসক্ষমতার সঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম।
সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন সাব-সিস্টেমের অতিরিক্ত কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে এর নির্ভুলতা বাড়ানো এবং শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে টিকে থাকার সক্ষমতা উন্নত করার বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নতুন সংস্করণের পাল্লা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। তবে ঠিক কত কিলোমিটার পর্যন্ত এর পাল্লা বাড়ানো হয়েছে, তা জানানো হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ফাতাহ-৪ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সফল প্রশিক্ষণমূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছিল। ওই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লা প্রদর্শন করে।
ফাতাহ-৪ পাকিস্তানের আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ডের ব্যবহৃত একটি কনভেনশনাল বা প্রচলিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি মাটি থেকে প্রায় ৫০ মিটার উচ্চতায় উড়তে পারে। সামরিক প্রযুক্তির দৃষ্টিতে এত নিচু উচ্চতায় উড়ার সক্ষমতা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে এবং রাডারের শনাক্তকরণ কঠিন করতে সহায়তা করতে পারে।
ফাতাহ-৪-এর নতুন সংস্করণের পরীক্ষাটি পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সর্বশেষ ঘটনা। চলতি বছরের মে মাসে আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড ফাতাহ-৪ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছিল। এর এক মাস আগে এপ্রিলে একই কমান্ড ফাতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি সফল প্রশিক্ষণমূলক উৎক্ষেপণ পরিচালনা করে। একই মাসে পাকিস্তান নৌবাহিনীও স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি বেশি দূরত্বে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য পরীক্ষা করা হয়।