হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

এবার গাজায় ঢুকতে চায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গাজা সীমান্তের কাছে নাখাল গোষ্ঠীর সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি বসতি পুনঃস্থাপনের দাবিতে গত রোববার হাজারো ইহুদি সমাবেশ করেছে। কট্টর ডানপন্থী বসতি স্থাপনকারী আন্দোলন নাখালা এই সমাবেশের আয়োজন করে। এই গোষ্ঠীটি ২০০৫ সালে উচ্ছেদ করা ইসরায়েলি বসতিগুলো গাজায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম আল আরব আল–জাদিদ বা দ্য নিউ আরবের খবরে বলা হয়েছে—রোববারের সমাবেশের মূল দাবি ছিল, গাজায় ইসরায়েলিদের সাবেক বসতি নিশানিতে (Nissanit) ফিরে যেতে হবে। ২০০৫ সালে ইসরায়েলের গাজা প্রত্যাহারের সময় বসতিটি খালি করে দেওয়া হয়।

হাইফার বাসিন্দা তামার বেন সিমন তাঁর তিন ছোট সন্তানকে নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। গাজা সিটির ধ্বংসপ্রাপ্ত দৃশ্যের দিকে সীমান্তের ওপার থেকে তাকিয়ে তিনি সেখানে ভবিষ্যতে নিজের বাড়ি দেখতে পাচ্ছেন বলে জানান। বেন সিমন বলেন, ‘আমি আমার সন্তানদের নিয়ে সেখানে থাকতে চাই।’ তাঁর দাবি, সেখানে বসতি স্থাপন করলে ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষা করতে’ সহায়ক হবে।

ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সঙ্গে সহাবস্থানে তাঁর আপত্তি নেই বলেও জানান বেন সিমন। তিনি বলেন, ‘আমি আরবদের সঙ্গে থাকি। আমি হাইফায় থাকি।’ এ সময় তিনি হাইফার একটি হাসপাতালে তাঁর বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীদের কথা উল্লেখ করেন।

তবে গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তাঁর অবস্থান ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, গাজায় আরবদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এটা দুঃখজনক, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে এটা করেছে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বসতি পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টার সামনের সারিতে রয়েছে নাখালা। আন্দোলনটির সঙ্গে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন জোটের আইনপ্রণেতারা নিয়মিতভাবে নাখালার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সমর্থন জানান। রোববারের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, নির্বাচনের আগেই আমরা নিশানিতে পৌঁছে যাব।’

বেন-গভির তাঁর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জিউইশ পাওয়ার দলের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, যদি নির্বাচনের আগে তা সম্ভব না হয়, তাহলে তিনি পরবর্তী সরকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হতে চান। সেই অবস্থান থেকে তিনি ‘আমাদের নিশানিতে, পুরো উত্তর সীমান্ত এলাকায় এবং পুরো গাজায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।

গাজা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান

ট্রাম্প প্রশাসনের গাজা-সংক্রান্ত ঘোষিত নীতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজা দখল বা ভূখণ্ডটি নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করবে না। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী সেখান থেকে প্রত্যাহার করবে। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গাজায় ইসরায়েলি বসতি পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি না এটা ঘটবে।’

তবে রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক শায়েল বেন-এফ্রাইম বলেন, গাজায় বসতি পুনঃস্থাপনের বিষয়টি এখন ‘হবে কি হবে না’ এমন প্রশ্ন নয়, বরং ‘কখন হবে’ সেই প্রশ্ন। তাঁর মতে, বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের এই আকাঙ্ক্ষার পথে বাধা সৃষ্টি করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং অন্য রাজনৈতিক নেতাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে।

বেন-এফ্রাইম বলেন, ‘ইতামার বেন-গভির ও লিমোর সন হার-মেলেখের মতো নেসেট সদস্যরা এই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন, পাশাপাশি প্রভাবশালী রাব্বিরাও ছিলেন। তারা যা চান, তা না পাওয়া পর্যন্ত নিরলসভাবে এর জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাবেন।