ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজায় অবশিষ্ট থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ওই সেনার নাম মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) রান গিভিলি। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই তাঁর মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল ইসরায়েল।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিবিসি জানিয়েছে—যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবশিষ্ট জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল হামাসের। সে অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মি এবং ২৭ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিকের মরদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে রান গিভিলির অবস্থান সম্পর্কে দীর্ঘদিন কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি হামাস। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংগঠনটি জানিয়ে আসছিল, তারা এখনো তাঁর মরদেহের সন্ধান পায়নি।
ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, গিভিলির মরদেহ উদ্ধারের অভিযান শেষ হওয়ার পর মিসরের সঙ্গে গাজার প্রধান সীমান্ত ক্রসিং আবারও খুলে দেওয়া হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গিভিলির মরদেহ ফেরত নেওয়ার ঘটনাটিকে ‘একটি অসাধারণ অর্জন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—আমি নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—সবাইকে ফিরিয়ে আনব। শেষ বন্দী পর্যন্ত আমরা সবাইকে ফিরিয়ে এনেছি।’
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, এই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত পালনে হামাসের প্রতিশ্রুতি রক্ষারই প্রমাণ।
রান গিভিলির মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার পথ পরিষ্কার হলো বলে মনে করা হচ্ছে। পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজার পুনর্গঠন ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, এমনকি হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গিভিলির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত এই ধাপে যেতে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল ইসরায়েল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ২৪ বছর বয়সী ইয়ামাম কমান্ডো যোদ্ধা রান গিভিলি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সকালে যুদ্ধে নিহত হন এবং তাঁর মরদেহটি গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা গিভিলির শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৬৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।