পশ্চিম তীরের তাইবেহ শহর সফররত ইউরোপীয় একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের ওপর হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। গত শনিবার এই হামলা চালায় ইসরায়েলিরা। এই প্রতিনিধিদলে ফরাসি ও বেলজিয়াম কনস্যুলেটের প্রতিনিধি এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পোলিশ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
তাইবেহ শহরের মেয়র সুলাইমান খুরি লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরবকে জানান, তাইবেহ ও ফ্রান্সের একটি শহরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মৈত্রী (টুইনিং) চুক্তি সম্পর্কিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল প্রতিনিধিদলটি।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা ও মেয়রকে সঙ্গে নিয়ে শহরের পশ্চিম পাশে কৃষকদের জলপাই সংগ্রহে সহায়তা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ মারধরের শিকার হন। হামলাকারীরা বেলজিয়াম কনস্যুলেটের গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলে। তবে প্রতিনিধিদলটি শেষ পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় সেখান থেকে সরে যেতে সক্ষম হয়।
মেয়র খুরি জানান, এই হামলায় দুজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি না হলেও তারা নিজেদের চোখে এই সহিংসতা দেখেছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ফিলিস্তিনিদের কাছে নিরাপদ বলে বিবেচিত ঘরবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানকালেই ওই হামলা চালানো হয়। আক্রমণকারীরা ট্রাক্টরে করে শহরটিকে ঘিরে রাখা সাতটি বসতি আস্তানা থেকে এসেছিল।
খুরি জানান যে, হামলাকারী বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১০ জন। অংশ নেওয়া অতিথিরা যখন এলাকা ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন তারা মেয়রের গাড়িতেও হামলা চালায়, যদিও গাড়ির ভেতরে থাকা কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।
প্রতিনিধিদলে থাকা এক ফরাসি মেয়র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ইসরায়েলের ডানপন্থী সরকার এসব বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাইবেহ শহরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সফরের সময় হামলার শিকার হওয়ার পর উত্তর ফ্রান্সের ওলনয়-আমেরিস শহরের মেয়র বার্নার্ড বাউডো বলেন, ‘আমি মনে করি বসতি স্থাপনকারীরা যদি এমন আচরণ করে, তবে বুঝতে হবে এর পেছনে ইসরায়েলি সরকারের তোষণ বা সহনশীলতা রয়েছে।’
বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোট এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জলপাই সংগ্রহ করা, সংবাদ পরিবেশন করা কিংবা কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করা—কোনোটির কারণেই কারও ওপর হামলার ঝুঁকিতে পড়া উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, এই সহিংসতার জন্য যারা দায়ী এবং যারা তাদের সমর্থন দেয়, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোরালো চেষ্টা বেলজিয়াম অব্যাহত রাখবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে এই ‘গুরুতর সহিংসতার ঘটনা...যার মধ্যে ইসরায়েলিরা কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালিয়েছে’ তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা জানায় যে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে।